বাম্পার ফলনের আশা
নিয়ামতপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নিয়ামতপুরে মুকুলের ভারেই যেন ভেঙে পড়বে আমের ডাল, মুকুলে ঠাসা আমগাছ হঠাত্ দেখলে এমন ভয়ও জাগতে পারে। কিন্তু এ ভয়ের আড়ালেই হাসছে সুখবর। এখন উপজেলার যেদিকে চোখ যায় আমগাছে শুধু মুকুল আর মুকুলের অনিন্দ্য সুন্দর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এতে আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
রসুলপুর ইউনিয়নের সদস্য ও ভীমপুর গ্রামের আমচাষি মো. শহিদুজ্জামান তরফদার কাজল জানান, আমার ১৫ বিঘা আম্রপালি গাছের বাগান রয়েছে। তিন বছর মেয়াদি লিজ দেওয়া রয়েছে। তিন বছরে ১৫ লাখ টাকা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। তবে এ মুহূর্তে শিলাবৃষ্টি হলে মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। তাই আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে বর্তমানে শঙ্কিত রয়েছেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবার বাম্পার ফলন হবে বলেও জানান তিনি। আরেক আমচাষি হাজিনগর ইউনিয়নের মোহাম্মাদপুর গ্রামের অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম জানান, আমার ৫০-৬০ বিঘা জমিতে আমবাগান রয়েছে। বেশির ভাগই আম্রপালি জাতের। কিছু ন্যাংড়া আমগাছও রয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাগানে সব রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছি। এবার মুকুল খুব ভালো হয়েছে। অবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমীর আব্দুল্লাহ মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, এ বছর নিয়ামতপুরে ১ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে ৬৬৫টি বাগানের আমগাছে শতভাগ মুকুল এসেছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এখান থেকে প্রায় ১৩ হাজার ৫৬০ টন আম উত্পাদন হবে। অর্থাত্ প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আম উত্পাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি। তবে গাছে কোনো পোকার আক্রমণ দেখা দিলে নির্ধারিত মাত্রায় কীটনাশক দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সফিউল ইসলাম বলেন, আমরা মাঠে মাঠে আমচাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। ইতিমধ্যে সব আমগাছে ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে যাতে আমের মুকুলের কোনো রোগ না হয়।
