জাহাজের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম জেটি

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ২২:৩০

চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিসমূহ জাহাজের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও সচরাচর জাহাজসমূহ কখন বন্দরের জেটিতে পৌঁছাবে তা নিয়ে উদগ্রীব থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে বাল্ক কার্গো বা খোলা পণ্য নিয়ে আসা জাহাজের বহির্নোঙরে অপেক্ষাকাল নেই বললেই চলে। গতকাল রবিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাল্ক কার্গোবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে ছিল না। খাদ্যপণ্যবাহী একটি জাহাজ সব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে না পারায় বন্দরে ভিড়তে নিজেরাই সময় নিচ্ছে বলে জানা যায়। বাল্ক কার্গো না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ এই সুযোগে একটি জেটির সম্মুখে ড্রেজিংয়ের কাজ সেরে নিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ইতিপূর্বে চাল, ডালসহ খাদ্যপণ্যবাহী এবং ক্লিংকার, লোহার স্ক্র্যাপসহ প্রকল্পের জন্য আসা মেশিনারিজবাহী জাহাজকে জেটিতে ভেড়ানোর জন্য প্রতিযোগিতা করতে দেখা যেত। বহির্নোঙরে জাহাজের অপেক্ষাকাল ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্তও হতে দেখা গেছে। এতে করে ঐ সব পণ্যবাহী জাহাজকে প্রতিদিনের অপেক্ষার জন্য আমদানিকারকদের ১০-১২ হাজার ডলার ডেমারেজ চার্জ প্রদান করতে হতো। ডেমারেজ চার্জ থেকে রক্ষা পেতে আমদানিকারকগণ বিভিন্ন মাধ্যমে ধরনা ও তদ্বির চালিয়ে জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর চেষ্টা করতেন।

বহির্নোঙরে জাহাজজটের পরিপ্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্গো ও কনটেইনারবাহী জাহাজ ভেড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে। বাল্ক কার্গোবাহী জাহাজের মধ্যে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ অগ্রাধিকার পেত। এর মধ্যে স্ক্র্যাপ ও ক্লিংকারবাহী জাহাজ ন্যূনতম একটি করে জেটিতে ভেড়ার সুযোগ পেত। বন্দরের কার্গো জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থার মধ্যে গতকালের পরিসংখ্যানে শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে বলে জানা যায়। লোহার কাঁচামাল হিসেবে জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লোহার স্ক্র্যাপ জাহাজ সর্বোচ্চ সংখ্যায় জেটিতে ভিড়েছে। একই সঙ্গে চারটি স্ক্র্যাপ জাহাজ ভেড়ার সুযোগ পেয়েছে। অথচ কয়েক দিন আগেও একটি স্ক্র্যাপ জাহাজকে জেটিতে ভিড়তে ২০ থেকে ৩০ দিন বহির্নোঙরে অপেক্ষা করতে হতো। এমনকি স্ক্র্যাপ জাহাজের অপেক্ষাকাল কমাতে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে নির্মাণাধীন বেসরকারি কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে স্ক্র্যাপ জাহাজ ভেড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম জানান, আমদানি পণ্যবাহী বাল্ক কার্গো জাহাজ কোনো প্রকার অপেক্ষাকাল ছাড়াই বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারছে। তাতে করে বন্দর অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে করোনা ও লকডাউনের সময় বন্দরে আমদানি পণ্য জাহাজের চাপে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছিল।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবার করোনা ও লকডাউন সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতিও গ্রহণ করে। বন্দরের অপারেশন কাজে নিয়োজিতদের দুই শিফটে ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে করে এক গ্রুপ এক দিন কাজ করলে পরদিন অন্য গ্রুপ কাজ করবে। একই সঙ্গে বন্দরে থাকা খালি ও ভর্তি কনটেইনারসমূহ সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর নির্দেশ প্রদান করে।