রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে পুলিশ চেকপোস্টে ‘কঠোর বিধিনিষেধে’ গতকাল রবিবার দুপুরে একটি প্রাইভেট কার আটকে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্য ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে উত্তপ্ত বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন অ্যাপ্রোন পরা এক নারী। তিনি পরিচয় দেন তিনি ডাক্তার। তবে পরিচয়পত্র দেখাননি। এরপর শুরু হয় বিতণ্ডা। এই দৃশ্য সরাসরি ফেসবুকে লাইভ প্রচার হতেই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। এক পর্যায়ে ঐ নারী নিজেকে শওকত আলী বীরবিক্রমের মেয়ে সাইদা শওকত বলে পরিচয় দেন। ‘ডাক্তার বড় না পুলিশ বড়’—সেই প্রশ্ন তুলে তা দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন ঐ নারী চিকিত্সক।
উত্তেজিত ঐ নারী নিজেকে বীরবিক্রমের মেয়ে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক পরিচয় দেন। তবে পুলিশ বারবার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলেও তিনি তা দেখাননি। ৫ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ঐ ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকে উদ্দেশ করে ঐ নারী বলেন, ‘করোনায় জীবন গেছে কয়জন ডাক্তারের, আর আপনারা কতজন মরছেন। আমার কাছে আবার চান মুভমেন্ট পাশ।’ এরপরই পালটে যায় পরিস্থিতি। পুলিশের এক সদস্য ঐ নারীকে বলেন, ‘আপনি আমাদের ধমক দিচ্ছেন কেন?’ জবাবে নারী বলেন, ‘আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর মেয়ে।’ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমিও মুক্তিযোদ্ধার ছেলে। আপনি আমাকে শোনাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার কথা।’ এ সময় উত্তেজিত হয়ে ঐ নারী পুলিশকে বলেন, ‘ডাক্তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আমি বিএসএমএমইউ প্রফেসর, বীর বিক্রমের মেয়ে। আমাকে আপনারা হয়রানি করতে পারেন না।’ পরে পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘আপা আপনাকে তো হয়রানি করা হচ্ছে না। আপনার কাছে পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে।’ এরপরে নিজ গাড়িতে উঠে যান ঐ নারী চিকিত্সক। তখন পুলিশের এক সদস্য ঐ নারীকে বলেন, ‘আপনি আমাকে তুই করে বলছেন কেন?’ তখন নারী বলেন, ‘তুই মেডিক্যালে চান্স পাস নাই, তাই তুই পুলিশ; আর আমি চান্স পাইছি, তাই আমি ডাক্তার।’ এক পর্যায়ে আন্দোলনের হুমকি দেন ঐ নারী। দাঁড়া, আমি আন্দোলন করে দেখিয়ে দেব—ডাক্তার বড় না, পুলিশ বড়।’ পুলিশ কর্মকর্তা জবাবে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছেন?’ এরপর কাউকে ফোন করেন ঐ নারী। ফোনে তাকে হয়রানি করার কথা বলেই পুলিশ সদস্যের হাতে তার ফোন তুলে দেন কথা বলার জন্য, কিন্তু তিনি কথা বলেননি।
