আজ ১৪৪২ হিজরির ষষ্ঠ রমজানুল মোবারক। মাহে রমজানের রোজা পালিত হয় একমাত্র মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনকে একান্তে রাজি ও খুশি করার মানসে। মহান আল্লাহপাক তার প্রকৃত মুমিনদের একান্ত কাছে টেনে নেওয়ার জন্য জান ও মাল দিয়ে পরীক্ষা করতে থাকেন। হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবি হজরত মোহাম্মদ (স.) পর্যন্ত বিভিন্নজনকে বিভিন্ন রকম পরীক্ষা করেছেন। আমরাও আল্লাহর বান্দা ও রসুল (স.)-এর সাধারণ উম্মত হিসেবে আল্লাহর পরীক্ষাতেই আছি। গত বছর আমরা করোনার মধ্যে অত্যন্ত ধৈর্য ধারণ করে পবিত্র রমজানের রোজা পালন করেছি। এ বছরও আমরা মুসলিম উম্মাহ করোনার বিপর্যয়ের মধ্যে রোজা পালন করছি। আমরা এখনো যে বেঁচে আছি, সেই বেঁচে থাকাটাই বোনাস লাইফ। সেজন্য মহান আল্লাহর দরবারে অসংখ্য শুকরিয়া আদায় করি।
আল্লাহপাক পবিত্র আল কোরাআনে ঘোষণা করেন, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদেরও পালনকর্তা। এতত্সত্ত্বেও তারা সন্দেহে পতিত হয়ে ক্রীড়াকৌতুক করছে। অতএব, আপনি সেই দিনের অপেক্ষা করুন, যখন আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যাবে, যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। এটা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সুরা দু’খান ৮, ১২)।
আল কোরআনের আলোচ?্য আয়াতসমূহে উল্লিখিত ধোঁয়া সম্পর্কে তিন প্রকার উক্তি বর্ণিত আছে। এক. কিয়ামতের অন?্যতম আলামত বা কিয়ামত সন্নিকটে সংঘটিত হবে। দ্বিতীয় উক্তি, হজরত আলী (রা.), ইবনে আব্বাস (রা.), ইবনে ওমর (রা.), আবু হোরায়রা (রা.), হাসান বসরি (রহ.) প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে যে, ভবিষ্যদ্বাণীগুলো অতীতে পূর্ণ হয়ে গেছে এবং এতে মক্কার সেই দুর্ভিক্ষ বোঝানো হয়েছে, যা মক্কাবাসীর ওপর অর্পিত হয়েছিল। তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছিল। এমনকি তারা মৃত জীবজন্তু খেতে বাধ্য হয়েছিল। আকাশে বৃষ্টি ও মেঘের পরিবর্তে ধোঁয়া দৃষ্টিগোচর হয়েছিল। এই উক্তি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) প্রমুখের। তৃতীয়ত, এখানে মক্কা বিজয়ের দিন মক্কার আকাশে উড়ন্ত ধূলিকণাকে ধূম্র বলা হয়েছে। এই উক্তি আবদুর রহমান ইবনে আরাজ প্রমুখের। (তথ্যসূত্র :তাফসিরে কুরতবি)।
আবু মালিক আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেন, আমি তিন বিষয়ে সতর্ক করছি—ধূম্র, যা মানুষকে একপ্রকার সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত করে দেবে এবং দেহে প্রবেশ করে ধ্বংস করে দেবে। দুই. দাব্বাতুল আরদ ভূগর্ভ থেকে নির্গত পশু। তিন. দাজ্জাল বাহির হবে। (তাফসিরে ইবনে কাছির)। হে আল্লাহ, আমাদের মানবজাতিকে তুমি সমস্ত বালামুসিবত থেকে হেফাজত করো, আমিন।
লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ, ঢাকা
