শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার হাওর উপজেলাগুলোতে কৃষকদের বোরো ধান কাটার ধুম পড়েছে। আগাম বৃষ্টি বা বন্যার কবল থেকে এই বোরো ধান রক্ষার জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করে ধান কাটছেন তারা। পাশাপাশি ১৩৪টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়েও চলছে ধান কাটা। সোমবার পর্যন্ত সারা জেলায় ৩৬ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই শতকরা ৫০ ভাগ ধান কাটা হয়ে যাবে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। নেত্রকোনার হাওর উপজেলাগুলো হলো মোহনগঞ্জ, মদন, কলমাকান্দা, খালিয়াজুরী, আটপাড়ার কিছু অংশ এবং পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা। এবার জেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে হাওরে আবাদ হয়েছে ৪০,৯৬৩ হেক্টর এবং উঁচু এলাকায় আবাদ হয়েছে ১,৪৪,০২৩ হেক্টর জমি।
নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান সোমবার দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, এখন উচ্চফলনশীল, বিআর-২৮ এবং স্থানীয় জাতের ধান কাটা হচ্ছে। উঁচু জমির ধান ও ২/১ দিনের মধ্যে কাটা শুরু হবে।
জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষক মহসিন মিয়া বলেন, হাওরে বোরো ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সাকুল্য ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। যদি আগাম বন্যা না হয়, তাহলে ধানের উত্পাদন আশাতীত হবে। এদিকে মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটছে। প্রতিমণ ধান সাড়ে ৮০০ টাকা থেকে সাড়ে ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন। ডিঙ্গাপোতা হাওরের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, বাঁধগুলো যথা সময়ে নির্মাণ হওয়ায় তারা এখন আর আতঙ্কে নেই।
এবার আগাম বন্যায় যাতে হাওর উপজেলাগুলোর বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ১২৪টি বাঁধ নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শতভাগ শেষ হয়েছে। নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ায় এখন আর আগাম বন্যার কারণে ধানের কোনো ক্ষতি হবে না।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, হাওরে বোরো ধানের উত্পাদন ভালো হয়েছে। করেনাকালীন কৃষকরা যাতে সতর্কতার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধান কর্তন করে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
