লকডাউনেও চাঙা শেয়ারবাজার

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৮

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে সরকারঘোষিত লকডাউনে শেয়ারবাজার পতনের আশঙ্কা করেছিলেন অনেকে। তবে তেমনটা ঘটেনি। এ সময়ে শেয়ারবাজারে চাঙাভাব দেখা গেছে। ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শেয়ারবাজারে এ টানা উত্থান প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিএসইসি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপিত হয়েছে, যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু থাকবে। এটা বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়িয়েছে।

মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এই কঠোর বিধিনিষেধসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ব্যাংক চালু হওয়ার ঘোষণা আসে। তখন শেয়ারবাজারে লেনদেন চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে প্রথম লেনদেন হয়। ঐ দিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়। ডিএসইর প্রধান সূচক বাড়ে ৫১ পয়েন্ট। আর সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক বাড়ে ১৮৭ পয়েন্ট। আর দ্বিতীয় কার্যদিবস রবিবার ডিএসই প্রধান সূচক বাড়ে ২১ পয়েন্ট এবং সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক বাড়ে ৩৪ পয়েন্ট। লকডাউনের প্রথম দুই কার্যদিবসের মতো গতকাল তৃতীয় কার্যদিবসেও দুই বাজারে মূল্যসূচক বেড়েছে।

গতকাল দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৪৯ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে কঠোর বিধিনিষেধের তিন কার্যদিবসে ডিএসই প্রধান সূচক বাড়ল ৯০ পয়েন্ট। প্রধান সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচক। এর মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যসূচকের উত্থানের সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৯৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৬০২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৯৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

গতকাল টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১০৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিডি ফাইন্যান্সের লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, লাফার্জহোলসিম বাাংলাদেশ, রবি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইনসিওরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, নিটল ইনসিওরেন্স এবং সোনার বাংলা ইনসিওরেন্স। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৫৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৮টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।