টেইলার্সের ব্যবসায়ী আমিনুলদের দীর্ঘশ্বাস!

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৯

রাজধানীর তুরাগে কামারপাড়া ও এর আশপাশেই দর্জির দোকান আছে কমপক্ষে ২০টি। প্রতি বছর রমজান শুরু হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে এসব দর্জির দোকানে কাপড় বানাতে দিতে আসা মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসে ভিড়ও বাড়তে থাকে। রমজানের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে কাজের চাপে দর্জিরা নতুন করে আর কোনো কাজ নিতে পারেন না। কাজের এই চাপ থাকে চাঁদ রাতের দিন ভোর পর্যন্ত। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা। শুধু এবার নয়, গত দুই ঈদেও একই অবস্থা ছিল। কাজের চাপ তো দূরের কথা করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে কঠোর লকডাউনের কারণে উল্টো দোকানই এখন বন্ধ।

গতকাল বন্ধ দোকানের সামনে কথা হচ্ছিল টেইলার্স ব্যবসায়ী আমিনুলের সঙ্গে। আমিনুল এই কামারপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ভাড়া থাকেন। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে টেইলার্সের দোকান চালাচ্ছেন। কিন্তু এমন দুঃসময় আর কখনো আসেনি তার জীবনে। আক্ষেপ করে বললেন, মানুষ তো আর সারা বছর তেমন জামাকাপড় বানায় না। বেশির ভাগ মানুষই ঈদ উপলক্ষ্যে নতুন জামাকাপড় বানায়। কিন্তু করোনার কারণে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। একদিকে টেইলার্স বন্ধ অন্যদিকে দোকান ভাড়াও দিতে পারছি না। সব মিলিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে আছি।

এমন অনিশ্চিয়তায় পড়েছেন ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী রেজাউলও। তুরাগ এলাকার বাকি অংশটি উত্তর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে গত কয়েক বছরে এই এলাকায় দালানকোঠা উঠছিল হু হু করে। ফলে ছোট্ট ওয়ার্কশপে রাতদিন কাজ করেও সময় মতো কাস্টমারকে মাল সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। সেই রেজাউল এখন সম্পূর্ণ বেকার। তিনি ছাড়াও তার ওয়ার্কশপে যে চার জন কাজ করছিল তাদেরও এখন কোনো কাজ নেই। শুধু আমিনুল কিংবা রেজাউল নন। সারা দেশে ব্যক্তি খাতের এমন অসংখ্য অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা করোনা মহামারির কারণে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ পথে বসে গেছে। অমানবিক এক জীবনযাপন করছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গত বছরের করোনার ধাক্কা কাটিয়ে আবার যখন সবকিছু একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছিল, তখনই করোনা দ্বিতীয় ঢেউয়ে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সবকিছু।

২০১৯ সালের শিল্প খাতের জরিপ অনুযায়ী দেশে ৪৬ হাজার ২৯১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে। যার ৯৩ ভাগই অণু, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এই জরিপ অনুযায়ী অণু, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। অণু, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বা এমএসএমইর অবদান জিডিপির ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ খাতের উদ্যোক্তাদের আয় ও সঞ্চয় সীমিত। ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতাও কম। এসব ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হবে। তবে এই জরিপে গৃহকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অর্থাত্ ছোট ছোট টেইলার্স, ওয়ার্কশপ, স্বল্প পরিমাণে বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচার যেসব ব্যবসা আছে তা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এ হিসেবে করোনা মহামারির কারণে দেশে লাখ লাখ ব্যক্তি খাতের অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তরা অনেকেই পথে বসে গেছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।