বরগুনায় আদালত ভবনে ২১ বিষধর সাপের বাচ্চা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৯

পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন থেকে ২১টি গোখরা সাপের বাচ্চা ও শতাধিক ডিমের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। গত রবিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয় কয়েক জন সাপুড়ের সহায়তায় এসব সাপের বাচ্চা ও ডিমের খোসা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে আদালত কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার করার সময় সাপের বাচ্চাগুলো মেরে ফেলা হয়।

পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার কামাল হোসেন জানান, সকালে আদালতের কাজে অফিসে প্রবেশের সময় পায়ের কাছ থেকে একটি সাপ দ্রুত চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আরো কয়েকটি সাপ আদালত ভবনের মেঝেতে চলাচল করতে দেখা যায়। বিষয়টি আদালতের বিচারক সুব্রত মল্লিককে জানানো হয়। পরে স্থানীয় সাপুড়েকে খবর দিলে তারা এসে ২১টি গোখরা সাপের বাচ্চা ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে মারা হয়। তিনি আরো বলেন, মাস খানেক আগেও আদালত চলাকালীন বিচারকের এজলাসের চৌকির নিচ থেকে দুটি বড় গোখরা সাপ মারা হয়। এ ঘটনার পর থেকে বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ ও বিচারপ্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আদালত ভবনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মো. হাসান বলেন, আদালত ও এখানে থাকা মূল্যবান কাগজপত্রের নিরাপত্তার জন্য আমরা এখানে রাত্রিও যাপন করি। ভাবতে অবাক লাগে, এতোগুলো বিষধর সাপের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে থেকেছি।

তিনি আরো বলেন, এই আদালত ভবনে বিচারপ্রার্থীরা আসেন। আসেন আইনজীবীরাও। পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিদেরও আনা হয় এখানে।

স্থানীয় সাপুড়ে দুলাল বলেন, বাচ্চাগুলো বিষধর গোখরা সাপের। ভবনের মেঝের বিভিন্ন স্থানের ফাটল দিয়ে বাচ্চাগুলো ওপরে চলাচল করছে। সাপুড়ে দুলালের ধারণা, এখানে এখনো অসংখ্য সাপের বাচ্চার সঙ্গে বড় সাপও রয়েছে।

পাথরঘাটা সরকারি কে এম পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুর আলম বলেন, আদালতের নির্ধারিত কোনো ভবন না থাকায় ২০১৪ সালের মার্চ মাস থেকে পাথরঘাটা কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক তলা একটি ভবনে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম চলে আসছে। যেহেতু শতাধিক সাপের ডিমের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে, তাই ভবনের ভেতরে সাপের বাচ্চাসহ বড় গোখরা সাপও রয়েছে।