করোনায় প্রচারণা সীমিত করছে দলগুলো

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৮

ভারতে করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রচার কর্মসূচি কাটছাঁট করছে সব রাজনৈতিক দল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তা একদিনে শেষ করার চিন্তাভাবনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ এখনই লকডাউনের পথে যাচ্ছে না বলে গতকাল সোমবার জানিয়ে দিয়েছেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পাশাপাশি ফের একবার বাকি তিন দফার ভোটগ্রহণ একই দিনে করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

নির্বাচনি সভায় মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘আমাদের হাতে এত টাকা নেই যে ভার্চুয়াল সভা করব। তাই ঘুরে ঘুরেই নির্বাচনি সভা করতে হচ্ছে। তবে মানুষের যাতে অসুবিধা না হয় তার জন্য সভার সময় কাটছাঁট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তো ২৪ এপ্রিল একদিনে বাকি নির্বাচন করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা মানেনি। তবে প্রচারের সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এটা মেনে নিয়েছি।’

পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম আগেই সভা, মিছিল করে প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল। জাতীয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও তার পশ্চিমবঙ্গে প্রচার সভা বাতিল করেন। এরপর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও জানিয়ে দিয়েছিলেন, বড় সভা, মিছিল তারা করবেন না। বিজেপি এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২২ এবং ২৪ এপ্রিল যে চারটি সভা হওয়ার কথা ছিল, তা ২৩ এপ্রিল একই দিনে করে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গে রোজই সংক্রমণ এবং করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। দেশ জুড়ে একই পরিস্থিতি। সংক্রমণ রুখতে ইতিমধ্যেই দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের পাঁচ শহরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি গুরুতর হতে থাকায় মমতা ব্যানার্জি মালদায় নির্বাচনি সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়ে দেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে নাইট কারফিউ করে কিছু হবে না। ওটা কোনো সমাধান নয়। লকডাউন নিয়েও কোনো পরিকল্পনা নেই।’ সেখানে তিনি বলেন, ‘লকডাউন করলেই কি সব বদলে যাবে? লোকের অসুবিধা হবে না ওয়ার্ক ফর্ম হোমে জোর দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোতে ছুটি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৃথক টাস্ক ফোর্স গঠনের পাশাপাশি অন্তত ২০০ সেফ হোমে ১১ হাজার শয্যার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালেও বাড়ানো হচ্ছে শয্যা।

মমতা অভিযোগ করে বলেন, ‘লকডাউন করলেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? পশ্চিমবঙ্গের সেফ হোমগুলো নির্বাচন কমিশন নিয়ে নিয়েছে। কাজেই করোনা রোগীদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সেগুলো এখন পাওয়া যাচ্ছে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে করোনা রোগীদের না ফেরানো হয়। গোটা রাজ্যে নির্বাচন চলছে। ফলে প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এটা বিপর্যয়ের সময়। তাই সভা-সমিতি নিয়েও আমাদের ভাবতে হচ্ছে। স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অফিসে হাজিরার ক্ষেত্রেও বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে।’