খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৯

আজ ১৪৪২ হিজরির সপ্তম রমজানুল মোবারক অতিবাহিত হচ্ছে। মহান আল্লাহর হুকুমে করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্য দিয়ে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ হিসেবে মাহে রমজানের ফরজ রোজা পালন করে যাচ্ছি। রমজান মাসে দিনের বেলায় যাতে কর্মশক্তি বিনষ্ট না হয় এবং পেটের দাবিও পূর্ণ হয়, এজন্য সুবহে সাদিক হওয়ার আগেই পানাহারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন মহান আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন। মহান আল্লাহপাক পবিত্র আল কোরআনে ঘোষণা করেন যে, তোমরা খাও এবং পান করো ফজরের সাদা ও কালো সুতার মধ্যকার ব্যবধান প্রকাশ হওয়ার পূর্বে। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় উক্ত পানাহারকে সেহরি নামে অভিহিত করা হয়। রসুলে পাক (স.) তার উম্মতদের সেহরি খাওয়ার জন্য উত্সাহিত করেছেন। বিশ্বনবি (স.) এরশাদ করেন, হে জনমণ্ডলী, তোমরা সেহরি খাও। কেননা, এতে বরকত নিহিত রয়েছে। বুখারি ও মুসলিম। ঊষা পর্যন্ত আহার ও পান করার অনুমতি দিয়ে মহান আল্লাহপাক সেহরি খাওয়াকে উত্সাহিত করেছেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রোজাদারের জন্য সেহরি খাওয়াটা রব্বুল আলামিনের এক বিশেষ বড় অফার এবং নিয়ামত। মহান আল্লাহপাক চান যে, তার বান্দারা আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ গ্রহণ করুক। ঘরে যদি সেহরি খাওয়ার কিছুই না থাকে, তবু সেহরির নিয়ত করে এক ঢোক পানি খেতে হবে।

করোনা ভাইরাসের সময় আমরা সমাজের বিত্তবানেরা অসহায়, দরিদ্র ও অনাথ রোজাদারদের জন্য সেহরি ও ইফতারির ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসি। বিগত বছরগুলোতে যারা বিলাসবহুল ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন, এবার করোনা ভাইরাসের সময়ে সেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন না করে সেই অর্থ সমাজের গরিব ও অসহায় রোজাদারদের মধ্যে বিতরণ করতে পারি। রমজানের রোজার পাশাপাশি মানবতার সেবায় এগিয়ে আসি। রসুলে পাক (স.) এরশাদ করেন, মহান আল্লাহপাক ও তার ফেরেশতাগণ সেহরি ভোজনকারীদের প্রতি মুষলধারে রহমত বর্ষণ করতে থাকেন। (রেওয়াহে, আহমদ ৩/৪৪।) সেহরি বিলম্ব করে খাওয়া উচিত, যেন সেহরি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে সুবহে সাদিক হয়ে যায়। হজরত আনাছ (রা.) বলেন, আমরা সেহরি খাওয়ার পরেই নামাজে দাঁড়িয়ে যেতাম। হজরত আনাছ (রা.)কে জিগ্যেস করা হয়েছিল যে, সেহরি খাওয়ার শেষ সময় ও ফজরের আজানের শুরুর মধ্যখানে কতটুকু সময়ের পার্থক্য ছিল? উত্তরে হজরত আনাছ (রা.) বলেন, ফজরের আজান এবং সেহরির মধ্যখানে এতটুকুই পার্থক্য থাকত যে, পঞ্চাশটি আয়াত তিলাওয়াত করা যায়। (মুসলিম শরিফ, ২/৭৭১)। মহান আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে ইফতার ও সেহরিসহকারে মাহে রমজানের পরিপূর্ণ হক আদায় করার তাওফিক দান করুন।

লেখক :অতিথি অনুবাদক, মক্কা আল মুকাররামাহ ও সাবেক খতিব, জাতীয় সংসদ জামে মসজিদ, ঢাকা