অবিনাশ আচার্য
কাকডাকা ভোরবেলা ভাঙে নাই ঘুম
দেখি নাই হাসিমাখা ভোরের কুসুম।
রাজপথে হয় নাই আলপনা আজ
মঙ্গলযাত্রার নাই কারুকাজ।
সারা দিন জনহীন বটতলা মাঠ
লাল-সাদা ফতুয়ার ভাঙি নাই পাট।
ঠিকঠাক ঠিক নাই এইবার থাক
নাই নাই নিয়ে তাই এলো বৈশাখ।
ঘরে বসে ডাল-ভাত শাকপাতা নিম
বারবার ধোয়ামোছা স্যাভলন-ভিম।
মাঠে হাট বসে নাই মুড়কি-মোয়ার
মিষ্টির দোকানের খোলে নাই দ্বার।
তেলেভাজা খাজাগজা বাতাসা ও খই
কেনাকাটা হুড়োহুড়ি নেই হইচই।
এইবার এইসব মুলতবি থাক
রংহীন সাদা-কালো এই বৈশাখ।
হাতপাখা টরটরি খেলা চরকির
চিরায়ত উত্সবে সমাগত ভিড়,
বেচাকেনা হতো খুব দুই-তিন মাস
করোনার এইকালে সব হলো নাশ।
গেল বার লাভ গেল পুঁজি এইবার
খেলনার কারিগর মাঠে খেল মার।
ছোটখাটো ব্যবসায়ী বসে নির্বাক
হালখাতা ছাড়া এলো এই বৈশাখ।
বাংলার ঢোল বাঁশি চিরচেনা সুর
মনে বাজে একতারা সাক্ষাতে দূর।
বর্ষবরণে আজ ঢাকা নাক-মুখ
হাসি-গানে উচ্ছ্বাস কই পাই সুখ।
এইদিনে জোর করে ঘরে বাঁধি মন
নিয়মের দাগ টেনে কড়া প্রশাসন।
ঘরে বসে থেকে বলি অতিমারি যাক
শুদ্ধতা নিয়ে যেন আসে বৈশাখ।
রমনার বটমূল উদ্যান মাঠ
গানে গানে ছায়ানট খুলবে কপাট।
রোগব্যাধি মলিনতা পুড়ে হবে খাক
ফিরে এসো ফিরে এসো সেই বৈশাখ।
