ডিএসইতে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ২১:১১

লকডাউনে শেয়ারবাজার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার দেশের শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের বড় উল্লম্ফন হয়েছে। এর মাধ্যমে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসেই মূল্যসূচক বাড়ল। মূল্যসূচকের টানা উত্থানের পাশপাশি লেনদেনের গতিও বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত আড়াই ঘণ্টার লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। এর মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে বাজারটিতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এই বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শেয়ারবাজরে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন চলছে।

তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার মূল্যসূচকের রীতিমতো উল্লম্ফন হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪২১ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে কঠোর বিধিনিষেধের চার কার্যদিবসে ডিএসই প্রধান সূচক বাড়ল ১৬১ পয়েন্ট। গতকাল প্রধান সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচক। এর মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৮২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মূল্যসূচকের এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাত। তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ১৮টি দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ছয়টির। আর সব খাত মিলিয়ে ১৯৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৮টির এবং ৬৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মূল্যসূচকের উত্থানের সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৬৯৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনেদেন বেড়েছে ৬০২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ২৫ মার্চের পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার ৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে : রবি, বিডি ফাইন্যান্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, লাফার্জহোলসিম বাাংলাদেশ, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইনসিওরেন্স, ইস্টার্ন ইনসিওরেন্স এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২১৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৬টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।