বিভিন্ন স্থানে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ২১:২৩

মীর্জাগঞ্জে দুই জনের মৃত্যু

ইত্তেফাক ডেস্ক

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। ডায়রিয়া আক্রান্ত পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ উপজেলায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ইত্তেফাক সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

মীর্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) :গত সাত দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মীর্জাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০৩ জন রোগী। মঙ্গলবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ এক দিনেই এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৩ জন। এদিকে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মীর্জাগঞ্জ ইউনিয়নের মীর্জাগঞ্জ গ্রামের আলম গোলদার (৫৫) ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই মারা গেছেন। এর আগে সোমবার উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মো. সুলতান আহমেদ (৫২) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাতেই তিনি মারা যান। মীর্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত প্রচুরসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই পটুয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১১ হাজার ব্যাগ আইভি স্যালাইনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

দশমিনা (পটুয়াখালী) :গত এক সপ্তাহে দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেড সংকটে মেঝেতে জায়গা করে চিকিত্সা নিচ্ছেন ডায়েরিয়া আক্রান্ত রোগীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জরুরি রোগী ছাড়া বাসায় রেখে চিকিত্সা চালিয়ে যাওয়ার পরমর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গলাচিপা (পটুয়াখালী) : ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জন ডায়রিয়া রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন এবং গত সাত দিনে ১৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন। রোগী বেড়ে যাওয়ায় শয্যা না থাকায় মেঝে বা করিডোরে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মু. মনিরুল ইসলাম বলেন, যেহেতু গলাচিপা ও রাঙ্গাবালি দুই উপজেলার মানুষ এখানে চিকিত্সা নিতে আসে সেহেতু রোগীর চাপ একটু বেশি থাকে। প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩৫ জন ডায়রিয়ার ও নিউমোনিয়ার রোগী ভর্তি করতে হচ্ছে।

স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) :গত এক সপ্তাহে ২০২ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বেলা ২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন। এদের মধ্যে নারী ও শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক ও নার্সরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে গরমের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। রোগীর চাপ বাড়ার কারণে শয্যা সংকট থাকায় রোগীদের মেঝেতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।