গাজীপুরে বেদখল কোটি টাকার বনভূমি উদ্ধার

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৬

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে এক যুবলীগ নেতার দখল থেকে কোটি টাকা মূল্যের এক একর বনভূমি উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের গাজীপুর ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজল তালুকদার ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার ঘোষ। উদ্ধারকৃত বনভূমিতে মাছের খামার গড়ে তুলেছিলেন ঐ যুবলীগ নেতা। ঐ জমিতে গড়ে উঠা মাছের খামারে এক্সকাভেটর বা খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি ভরাট করে দিয়েছে বনবিভাগ।

ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, ভবানীপুর বিটে ৪ নম্বর বারুইপাড়া মৌজার সিংড়াতলী এলাকায় বনভূমিতে মাটি খনন করে মাছের খামার নির্মাণ কাজ শুরু করেন গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাইয়ুম সরকার ও তার লোকজন। পরে প্রাথমিক পর্যায়ে সীমানা নির্ধারণ ব্যতীত পুকুর খনন কাজে বাধা দেন ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা। এতে কর্ণপাত না করে তারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে খামার নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। ভবানীপুর বিটে স্বল্প জনবল এবং বন দখলকারীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশ এবং উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়িত হয়। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও তিনি জানান।

সহকারী বন সংরক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, কাইয়ুম সরকার বিগত দিনে বনে ছয়টি পুকুর খনন করেন। সম্প্রতি আরো নতুন তিনটি পুকুর খনন কাজ শুরু করেন। অভিযানের আগে সার্ভেয়ার দিয়ে তার দখলে থাকা এক একর বনভূমি চিহ্নিত করা হয়। পরে উচ্ছেদের প্রথম পর্যায়ে ৫০ শতাংশ বনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ রোপণ করা হয়। উদ্ধারকৃত বনভূমির বর্তমান বাজার মূল্য অন্তত ১ কোটি টাকা।

অভিযানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বনবিভাগের গাজীপুর শ্রীপুর সদর বিট কর্মকর্তা সজীব কুমার মজুমদার, ভাওয়াল ও জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের কর্মকর্তা এবং স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে জয়দেবপুর থানা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করে।

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা কাইয়ুম সরকার জানান, ‘বনবিভাগের অভিযানের কথা শুনেছি। আমি কখনোই বনবিভাগের এক শতাংশ জমি দখল করিনি। সরকারি জমি দখলে রাখার প্রশ্নই আসে না। ঐ মৌজায় আমার ১৫ বিঘার মতো জমি আছে। আমার জমির সঙ্গে বনবিভাগের জমি রয়েছে। আমার জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য দুই বছর ধরে ঘুরছি। বনবিভাগ আমার জমিটি সীমানা নির্ধারণ করে তাদের কাছ থেকে অবমুক্ত করে দিচ্ছে না। ’