প্রতিকার চেয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ে চিঠি
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে কারখানামালিকদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা সচল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, দূরের শ্রমিকদের নিজস্ব পরিবহনে আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা ছিল সরকারের। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বেশির ভাগ কারখানা মালিক এসব নির্দেশনা মানছেন না। উপরন্তু কোনো কোনো পোশাক কারখানা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। এ ধরনের বেশকিছু অভিযোগ তুলে ধরে সোমবার সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন নামে একটি শ্রমিক সংগঠন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। ঐ চিঠিতে অভিযোগের আঙুল তোলা হয় শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) প্রতিও।
চিঠিতে বলা হয়, বিষয়গুলো পরিদর্শন কিংবা মনিটর করার জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) দায়িত্ব থাকলেও তা চোখে পড়ছে না। এমনকি এসব অভিযোগে এ পর্যন্ত কোনো কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন স্বাক্ষরিত ঐ চিঠিতে বলা হয়, মালিকপক্ষের অনুরোধে কারখানাকে লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি।
চিঠিতে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। শ্রমিকদের কর্মস্থলে আনা-নেওয়ার জন্য কারখানামালিকদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, তা সম্ভব না হলে অতিরিক্ত যাতায়াত ভাতার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া কারখানায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা এবং এলক্ষ্যে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, শ্রমিকদের ঝুঁকিভাতা দেওয়া, পোশাক শ্রমিকদের করোনা ভাইরাসের টিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাই কিংবা লেঅফ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
