সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জ-সিংগাইর-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ফোর্ডনগরে যানবাহন থামিয়ে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাতে ফোর্ডনগরে ১৫ থেকে ২০ জন ডাকাত নৌকা, সিমেন্টর খুঁটি ও মোটা পাইপ সড়কে ফেলে ব্যারিকেড দিয়ে এক এক করে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে অন্তত তিন ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতি করতে থাকে। ডাকাতরা যানবাহনের লোকদের হাত-পা, মুখ ও চোখ বেঁধে নগদ টাকা ও তিনটি যানবাহন নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ফোর্ডনগরের লিলি ওয়েলার্স লিমিটেডের শ্রমিক মিজানুর রহমান ও রাজন মোল্লা জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডাকাতদের কবলে পড়ে। তারা দেখতে পায় গাড়ি থামিয়ে দুর্বৃত্তরা গাড়ির চালক ও হেলপারদের চোখ মুখ ও হাত-পা বেঁধে রেখেছে। এ সময় তাদেরও ধারাল অস্ত্র দেখিয়ে বেঁধে রাখে এবং পকেটের টাকা ও মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর ইটের ট্রাক, বালুর ট্রাক ও আরেকটি গাড়ি এলে একইভাবে চালক ও হেলপারদের চোখ মুখ বেঁধে বালুর মধ্যে ফেলে রাখে। মো. আহসান নামে অটোরিকশার চালক জানান, রাত ১টার দিকে ডাকাতরা মারধর করে বেঁধে চিত করে শুইয়ে তার টাকা, মোবাইল ফোনসেটসহ তার গাড়ি নিয়ে যায়। এরপর একটি প্রাইভেটকার ও একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক ও হেলপারদেরও একই অবস্থা করে। অন্য একটি মালবাহী গাড়ির চালক মহিদুর জানান, রাত ৩টার দিকে ডাকাতরা তাকে বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে সে তার দাঁত দিয়ে দড়ির বাঁধ কেটে ফেলে। এরপর গাড়িতে থাকা কেচি দিয়ে সবার বাঁধন খুলে দেয়। তার ১২ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। ৫০ মিনিট পর সে মুক্ত হয়।
স্থানীয় একটি ফার্নিচার কোম্পানিতে কাঠ সরবরাহকারী আব্দুর রহিম বলেন, রাত ৩টার দিকে ডাকাতদের কবলে পড়ে চিত্কার দিলেও কোনো পুলিশ এগিয়ে আসেনি। অথচ কাছেই পুলিশ ফাঁড়ি। শুধু তাই নয়, পুলিশ এখন উলটো তাকেই অভিযুক্ত করতে চায় বলে তিনি জানান। ইটভাটার মালিক মো. হাবিবুর রহমান জানান, গাবতলিতে ইট বিক্রি করে রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছা মাত্র তার চালক ও হেলপারকে ডাকাতরা ট্রাকের স্টিয়ারিং এর সঙ্গে বেঁধে টাকা ও মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, উল্লিখিত স্থানে মাঝেমধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তার জন্য আমরাই এ পুলিশ ফাঁড়ি করে দিয়েছি। অথচ ৩০০ গজ দূরে পুলিশ ফাঁড়ি। এ সময় কোনো পুলিশ পাওয়া যায়নি। ফাঁড়িতে পুলিশও ছিল না।’ মুদি দোকানের শাহিনুরের স্ত্রী পারভিন জানান, তার দোকানের সব মালামাল লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ডাকাতি সম্পর্কে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নজরুল ইসলাম জানান, ‘রাত সোয়া ২টার সময় এখান দিয়েই টহল দিয়েছি। আমি এমন কোনো ঘটনাই দেখতে পাইনি।’ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সিংগাইর সার্কেলের মো. রেজাউল হক জানান, ‘আগে মামলা নিয়ে নেই। তারপর এ সব বিষয়ে কথা বলা যাবে।’
