করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সারা দেশে টানা দুই সপ্তাহের ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ চলছে। এতে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পেটে ক্ষুধা, কাজ নেই, টাকা নেই, খাবার নেই। বর্তমানে গরিবদের খাবার সরবরাহ ঠিক রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের সহায়তায় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন গরিব-দুস্থদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কৃষক, দিনমজুর, শ্রমিক, গৃহকর্মী, মোটরশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার ক্ষতিগ্রস্তদের আবারও নগদ অর্থসহায়তা দেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। ১ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার ৫ হাজার টাকা এবং অন্য পেশার প্রায় ৩৫ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে উপকারভোগীদের হাতে এসব নগদ অর্থসহায়তা পৌঁছে যাবে।
জানা গেছে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন শুরু করেছে সরকার। নতুন কৃষকদের পাশাপাশি সরকারের অর্থ বিভাগে সংরক্ষিত ডাটাবেজ অনুযায়ী বিভিন্ন পেশায় ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিক, গৃহকর্মী, মোটরশ্রমিকসহ অন্য পেশায় নিয়োজিতরা। এ বাবদ আনুমানিক ৮৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারের। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অর্থ বিভাগের বাজেটের অধীনে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকবিলা তহবিলের বরাদ্দ অর্থ থেকে নির্বাহ করা হবে। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে অর্থ বিভাগের ডাটাবেজে সংরক্ষিত তালিকায় অন্তর্ভুক্তদের সরাসরি অতি অল্প সময়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে বিগত ৪ এপ্রিল সংঘটিত ঝোড়ো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে দেশের ৩৬টি জেলায় প্রায় ১ লাখ কৃষক পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা (নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ) প্রণয়নের কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তাদের নগদ সহায়তা প্রদান বাবদ আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারের।
প্রসঙ্গত, বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ‘মুজিববর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থসহায়তা প্রদান’ শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছিল সরকার।
এদিকে করোনা মহামারিতেও মানবতার সেবা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে নেতাকর্মীর মৃত্যুর তালিকায়ও দলটি শীর্ষস্থানে। দুই দফা এই মহামারির আগ্রাসনে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা, মন্ত্রিপরিষদ ও দলীয় সংসদ সদস্যসহ সারা দেশে অনেক নেতাকর্মীকে হারিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। এছাড়া মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্রীয় নেতাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন। মৃত্যু হয়েছে বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদের চার জন আইন প্রণেতার। তার পরও নানা কর্মসূচি নিয়ে দিনরাত সারা দেশে কাজ করে যাচ্ছেন দলটির সব পর্যায়ের নেতারা। সব জনপ্রতিনিধি গরিব ও দুস্থদের ত্রাণসামগ্রী, ইফতার ও নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করছেন। রজমানের প্রথম দিন থেকেই মিরপুর ও দারুস সালাম এলাকায় প্রতিদিন দুই শতাধিক গরিব, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ইফতারসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করে আসছেন দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা কাজী ফরিদুল হক হ্যাপী। এছাড়া গত বছরের মতো এবার লকডাউনেও ‘মানবতার ডাকঘর’-এর মাধ্যমে খাবার, ওষুধ ও ডাক্তার নিয়ে জনসাধারণের সেবা প্রদান করছেন তিনি। রাজধানী থেকে শুরু করে সারা দেশে দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে ইফতারসামগ্রী ও সেহরি বিতরণ করছে ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতিদিন শতাধিক দুস্থ মানুষের ইফতার করাচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাসবিরুল হক অনু।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী পরিবহনশ্রমিকসহ বেকার কর্মহীন শ্রমিকদের আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভাসমান মানুষকেও ত্রাণসহায়তা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন এসব দেখাশোনা করবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর সব সহযোগী সংগঠনকে এই দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে থাকতে বলা হয়েছে।
