পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলেছেন নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, যাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের বেছে নেওয়া পশ্চিমবঙ্গের উচিত হবে না। এটা হলে পশ্চিমবঙ্গকে ভুগতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে মেরুকরণের রাজনীতিতে শঙ্কিত অমর্ত্য সেন বলেন, ভোটের নামে পশ্চিমবঙ্গে এখন বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। রাজ্যের শাসন ক্ষমতা স্থানীয় নেতাদের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ারও বিরোধিতা করেন অমর্ত্য সেন। তার মতে, কেন্দ্রের শাসকদের হাতে রাজ্য পরিচালনার ভার তুলে দিলে সেটা পশ্চিমবঙ্গকে ‘জাতীয় অবক্ষয়ের’ পথে নিয়ে যাবে।
সাক্ষাত্কারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকারের কল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রশংসা করেন অমর্ত্য সেন। তিনি বলেন, মেয়েদের জন্য গৃহীত পরিকল্পনা, গ্রামীণ পরিকাঠামোর উপকারী সম্প্রসারণ এবং খাদ্য সুরক্ষার আশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ?পারিবারিক রোজগার কম হলেও বাংলার শিশুদের স্বাস্থ্য গুজরাটের শিশুদের চেয়ে অনেক ভালো। যা এখানকার সরকারের ভালো কাজেরই প্রমাণ। তবে কিছু জায়গায় অবশ্যই ত্রুটি রয়েছে। রাজ্যে দুর্নীতির ব্যাপারেও মমতা সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে।
তার মতে, যদি পশ্চিমবঙ্গ স্থানীয় নেতাদের দ্বারা পরিচালিত না হয়ে কেন্দ্রীয় শাসকদের দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে সেটা তাদের হাতে ভারতের ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণকে ব্যাপকভাবে শক্তিশালী করবে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে কি-না, তা জানতে চাইলে অমর্ত্য সেন বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে সেই জাতীয় অবক্ষয়ের দলে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়।
সাম্প্রদায়িকতাকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনি রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত করায় বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, ১৯৪৬ সালের পর সাম্প্রদায়িক বিভাজনের এই ভয়ংকর রাজনীতি আর দেখা যায়নি। এখন তা-ই ঘটছে। পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রদায়গত পরিচয়ের রাজনীতি চলে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষ বসু সারা জীবন কুিসত এই রাজনীতির বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে লড়াই করে গেছেন। শান্তিপূর্ণভাবে সমাজকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তারা কঠোর পরিশ্রম করে গেছেন।
তৃণমূলের ‘?বহিরাগত’ তত্ত্বের সমালোচনা করলেও তার মতে, ?যখন বড় কোনো রাজনৈতিক দল পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যার একাংশকে, আরো স্পষ্ট করে বললে, বাঙালি মুসলিমদের সমর্থন না নিয়ে শুধু হিন্দুদের? সমর্থনে ক্ষমতায় আসতে চায়, তখন বিভাজন রেখাটা আরো বেশি করে স্পষ্ট হয়।
ইত্তেফাক/টিএ
