ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুন নূর সজল এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার ‘ব্যাচ ২০০৩’ শিরোনামের নতুন একটি ছবি। এতে নিজেকে নতুনরূপে প্রকাশ করেছেন তিনি। নতুন ছবিসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে।
সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
সম্প্রতি আপনার নতুন একটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি সম্পর্কে জানতে চাই—
গত ৮ এপ্রিল আমার অভিনীত ‘ব্যাচ ২০০৩’ ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। এরইমধ্যে বেশ সাড়া পাচ্ছি ছবিটি থেকে। সাইকো থ্রিলারধর্মী এই ছবিটি মূলত র্যাগিং অ্যান্ড বুলিংকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। আমরা যখন এই র্যাগিং করি তখন কিন্তু চিন্তা করি না যে, যার সঙ্গে এটা করছি সে কিংবা তার পরিবার এটা গ্রহণ কতে প্রস্তুত কি-না! আমাদের একটু মজা একজন মানুষের জীবন নষ্ট করে দিতে পারে। আবার সে প্রতিশোধ নিতে গেলে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে!—এমন গল্পই উঠে এসেছে ছবিটিতে।
ছবিটিতে আপনার চরিত্র প্রসঙ্গে জানতে চাই—
যদি এক কথায় শেষ করি তাহলে বলবো খল চরিত্র। তবে খল হলেও চরিত্রটিতে ভিন্নতা রয়েছে। এটি সাদা-কালোর মাঝামাঝি একটি চরিত্র। আমরা সচরাচর একটি চরিত্রকে সাদা বা কালো বলে ভাগ করে ফেলি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে, সবার মাঝেই ভালো-খারাপের মিশেল থাকে। ছবিটির শেষ পর্যন্ত কেউ না দেখলে বুঝতে পারবে না আমার চরিত্রটি সম্পূর্ণ সাদা, নাকি সম্পূর্ণ কালো!
হটাত্ এ ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের নেপথ্যে কোনো কারণ আছে কী?
একজন শিল্পীর ক্ষুদা থাকে অভিনয়ের, নিজেকে বারবার ভাঙার। আমিও আগে থেকেই চাইতাম এমন একটি চরিত্রে কাজ করতে। আমি বরাবরই চাই একটি ভালো গল্প, যার ভেতর একটি সামাজিক বার্তা থাকবে, নিজের চরিত্রে ভিন্নতা থাকবে। সেই জায়গা থেকেই এই কাজটি করা।
করোনাকালীন হলে ছবি সংকট চলছে। এমন অবস্থায় ছবিটি হলে মুক্তি না দিয়ে ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি দেওয়ার কারণ হিসেবে কী বলবেন?
এখন কিন্তু দেশের যে অবস্থা তাতে হলে ছবি মুক্তি দেওয়ার মতো পরিবেশ-পরিস্থিতি নেই। মানুষ ভিন্ন মাধ্যমেই এখন বিনোদন খুঁজছেন। তাছাড়া নতুন এই মাধ্যমগুলোর সঙ্গে কিন্তু আমাদের সবারই পরিচিত হতে হবে, খাপ খাওয়াতে হবে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, নতুন নতুন মাধ্যম তৈরি হচ্ছে, সুতরাং আমাদেরও সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
কিন্তু হলে আগে মুক্তি না দিয়ে ওটিটি মাধ্যমে মুক্তি দিলে হল সংকট আরো প্রকট হবে বলে মনে করছেন না?
এতে নিশ্চয় এই সংকট আরো দীর্ঘ হবে। ছবি আগে হলে মুক্তি দিয়ে পরে অন্য মাধ্যমে দিতে হবে। কারণ একটি ছবি কিন্তু হলের জন্যই নির্মিত হয়। তবে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের দুই মাধ্যমই দরকার।
দেশের চলচ্চিত্রে নিয়ে আপনার আশাবাদের জায়গা কোথায়?
আমাদের চলচ্চিত্র অনেক আগে থেকেই ঝিমিয়ে পড়েছে। আর এখন তো করোনার কারণে সব বন্ধই বলা যায়। তবে নতুন মাধ্যমগুলোর সঠিকভাবে ব্যবহার এবং চলচ্চিত্রের মানুষগুলো যদি প্রতিহিংসা না করে একাত্ম হয়ে কাজ করেন তাহলে নিশ্চয় চলচ্চিত্র সুদিন ফিরে পাবে। আমাদের একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে ভালো কাজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
সিনিয়র শিল্পীদের অবমূল্যায়ন নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। এতে মেধা সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন না?
এ বিষয়ে বলবো, আমাদের অনেক শক্তিশালী অভিনেতা রয়েছেন। তাদের অভিনয়, কাজের মান, তাদের দেখার জায়গা, বোঝার জায়গা এত বড় যে বলে শেষ করা যাবে না। এই গুণী মানুষগুলোর সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া কিন্তু আমাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। তাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ মানেই শিক্ষা। তাদের মতো অভিনেতা যত বেশি স্ক্রিনে থাকবেন ইন্ডাস্ট্রি তত সমৃদ্ধ হবে।
