ইত্তেফাক ডেস্ক
তীব্র গরমে বিভিন্ন অঞ্চলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী। বয়ে যাচ্ছে তীব্র দাবদাহ। রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ডায়রিয়াসহ গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
রাজশাহী :আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাজশাহীতে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সোমবার রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েক দিন থেকেই রাজশাহী জুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র দাবদাহ হিসেবে ধরা হয়। ফলে রাজশাহীতে এখন চলছে তীব্র দাবদাহ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।
এদিকে আগুন ঝরা আবহাওয়ায় তেঁতে উঠেছে পথঘাট। ঘরেও স্বস্তি নেই। এক পশলা বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির মতো আকাশের দিকে চেয়ে রয়েছে মানুষ। হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
চাটমোহর (পাবনা) : গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। চলমান দাবদাহে পুড়ছে প্রকৃতি। বৃষ্টির দেখা নেই। বিশেষ করে শহর এলাকার পরিবেশ তপ্ত হয়ে পড়েছে। হিটস্ট্রোক ও ডায়রিয়াসহ গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দিনমজুর ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষ প্রচণ্ড গরমেও বাইরে বের হচ্ছে রোজগারের আশায়। চাটমোহরের অটোভ্যান চালক বজলুর রহমান বললেন, ‘সংসারে খাবারের জন্য বের হই। কাজ না করলে কী খাব।’ চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক ডা. মতিউর রহমান বলেন, ‘এই গরমে শিশুদের প্রচুর পরিমাণ পানি পান করাতে হবে। ডায়রিয়া হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। করোনাকালীন সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে।’
সাঁথিয়া (পাবনা) : তীব্র দাবদাহে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে উপজেলার শতশত কৃষক। তাদের আবাদ করা পাট, সবজি ও মরিচ তীব্র দাবদাহে পানির অভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে। সাঁথিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সঞ্জিব কুমার ঘোষামী জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় পাট ও মরিচের আবাদ নিয়ে চিন্তায় পড়েছে কৃষক। দাবদাহে অনেক জমির পাট, সবজি ও মরিচ মাটিতে নুয়ে পড়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে।
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) : তীব্র গরমে শহরের অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। এতে অনেক পরিবারের ভোগান্তি বেড়েছে। শহরের কাচারি পাড়া, প্রফেসর পাড়া, ফারাক পুর, নওদাপাড়া, বামনপাড়ায় পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। কাচারিপাড়ার বাসিন্দা কাজী মামুন বলেন, কিছুদিন হলো পানি কম উঠত। কিন্তু এখন একদমই টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না। বামনপাড়ার তারিক বলেন, নলকূপে মটর দিয়েও পানি পাচ্ছি না। ভেড়ামারা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে নলকূপে পানি উঠছে না, পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টি নেই।
