শেরপুরে পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা
শেরপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের খুঁটির চারপাশের মাটি কেটে নেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিদ্যুত্ লাইনের চার-পাঁচটি খুঁটি ঘিরে বসবাসকারী আঠারোটি পরিবারসহ আশপাশের লোকজন বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। বিষয়টি ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার (সদস্য) যৌথভাবে বগুড়া পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ বরাবরে লিখিত সুপারিশ করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১১ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের চার-পাঁচটি খুঁটির চারপাশের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খননযন্ত্রের মাধ্যমে এসব মাটি কাটা হয়েছে। প্রায় আট ফিট গর্ত করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় জলাশয়ে পরিণত হয়েছে।
নন্দতেঘরি গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মোহাব্বত আলী, আব্দুস সোবহান, সিরাজুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘কালবৈশাখী ও বৃষ্টির মৌসুম শুরু হয়েছে। যে কোনো সময় ঝড়ে এই বিদ্যুত্ লাইনের খুঁটি উপড়ে বা ভেঙে ১১ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন তার তাদের বসতবাড়ির ওপর পড়তে পারে। ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। প্রাণহানি ও বসতবাড়িতে আগুন লাগার শঙ্কার কথা জানিয়ে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ লাইন স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে চলতি মাসের ৪ এপ্রিল বগুড়া পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিতে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এতে গ্রামের ভুক্তভোগী ২৪ জন গ্রামবাসী স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া ভবানীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমাধান করার জন্য জোর সুপারিশ করেন। কিন্তু অদ্যাবধি লাইনটি স্থানান্তরের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’ ভবানীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া ঐ লাইনটি দ্রুত স্থানান্তর করতে হবে। নইলে সামান্য ঝড় হলেই এই সঞ্চালন লাইনটির খুঁটি ভেঙে নন্দতেঘরি গ্রামে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির শেরপুর জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর আগে লাইনটি নির্মাণ করা হয়। তখন সেটি আবাদি জমি ছিল বলেই খুঁটি স্থাপন করা হয়। জলাশয়ের মধ্যে তো আর বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের সুযোগ নেই। কিন্তু বর্তমানে আবাদি জমিটি খনন করে জলাশয় বানানোর কারণেই বিদ্যুতের ঐ লাইনটির তিন-চারটি খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই এসব খুঁটি স্থানান্তরের জন্য সব খরচ তাদেরকেই পরিশোধ করতে হবে। এজন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছে। ডিমান্ড নোট নোটিশ পেলেও অদ্যাবধি টাকা জমা না দেওয়ায় কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে আবারও নোটিশ পাঠানো হবে। এর পরও টাকা জমা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
