লক্ষ্মীপুরে কমছে সয়াবিন আবাদ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩৪

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 

মেঘনার উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে এখন সয়াবিন উত্পাদনে দেখা দিয়েছে ভাটা। দিনদিন কমছে এই জেলায় সয়াবিনের আবাদ। অথচ লক্ষ্মীপুরের প্রায় শতভাগ কৃষক সয়াবিন আবাদের সঙ্গে জড়িত।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে জেলায় সয়াবিনের আবাদ হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে। তার পরের বছরই এর আবাদ হয় ৪০ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। আর এবার গত বছরের ছেয়ে ১০০ হেক্টর জমিতে কম আবাদ হয়ে তা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে। গত দুই বছর ধরে সয়াবিন চাষে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে অসময়ের টানা বৃষ্টিতে দীর্ঘদিন জমিতে পানি জমে থাকছে। এতে নিচু জমিতে লাঙল দেওয়া যাচ্ছে না। আবহাওয়া আনুকূলে না থাকায় গত দুই বছর থেকে আবাদ ও উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। তবে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কমছে সয়াবিনের চাষ। জেলার রামগতি, কমলনগর, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগঞ্জ উপজেলায় আমন ধান কাটার পরই কৃষকরা সয়াবিন আবাদের প্রস্তুতি নেন।

স্থানীয় কৃষক সেকান্তর আলী, ফুল মিয়া, দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকে জানান, সয়াবিন আবাদে খরচ কম। রোগ ও পোকার আক্রমণও কম হয়। চাষাবাদ পদ্ধতি সহজ। তবে গত কয়েক বছর সয়াবিন চাষ করে লাভের মুখ না দেখায় কৃষকরা সয়াবিন চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে দিন দিন এই জেলায় কমছে সয়াবিনের চাষাবাদ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪০ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৩ হাজর ২৭০ হেক্টর জমিতে, রায়পুরে ৮ হাজার হেক্টর জমিতে, রামগঞ্জে ৪০ হেক্টর জমিতে, রামগতিতে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, ‘অসময়ে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ার করণে চরাঞ্চলের জমিতে সঠিক সময়ে কৃষক চাষাবাদ করতে পারেনি। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ায়নি। তবে আশাকরি যা আবাদ হয়েছে তাতে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।’