তাঁতশিল্পে মন্দা ভাব

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ২১:৫৫

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পের মধ্যে তাঁতশিল্প অন্যতম। দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে এখন অনেক দূরে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিপুল সম্ভাবনাময় এ খাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ, প্রান্তিক তাঁতিদের মধ্যে সহজ শর্তে ঋণদান কর্মসূচি গ্রহণ, নিয়মিত তদারকি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হলে এ খাতে বিপ­ব ঘটানো সম্ভব। সেইসঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে চাহিদামাফিক দেশীয় তাঁতবস্ত্রের বাজার সৃষ্টি করা হলে এ খাতে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও সম্ভব। পাশাপাশি ব্যাপক ভিত্তিতে দেশীয় তাঁতবস্ত্রের উত্পাদন আরো বাড়াতে পারলে অর্থনীতি আরো সুসংহত ও মজবুত হওয়ার পাশাপাশি ঘটতে পারে বিপ­ব।

এই করোনাকালে তাঁতশিল্পের বাজার দুর্দশাগ্রস্ত। তাঁতশিল্পের শাড়ি-লুঙ্গি-গামছার কাঁচামাল সুতা এবং রং। বর্তমানে সুতা এবং রঙের বাজার প্রায় আকাশচুম্বী, কিন্তু কাপড়ের বাজার মন্দা। চড়া দামে কাপড় তৈরির কাঁচামাল হিসেবে রং, সুতা কিনে কাপড় বিক্রি করতে হয় আগের মূল্য থেকে অনেক কম দামে। শাড়ি, লুঙ্গি বা গামছা বানাতে বিভিন্ন কাজের শ্রমিকদের মজুরি এবং বোনাস ঠিকই দিতে হয়, কিন্তু বাজারের মন্দা ভাবের কারণে তাঁত মালিকরা ক্ষতির সম্মুখীন। সুতার দাম বৃদ্ধিই ক্ষতির প্রধান কারণ। তাঁতশিল্পের ক্ষতি সাধন রোধে সরকারের তাঁতিদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সুতা এবং রঙের দাম কমিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাইরের দেশ থেকে প্রয়োজনীয় সুতা আমদানি করে দেশে বাজারজাত করলে এ ক্ষতি অনেকাংশ লাঘব হবে বলে আশা করছেন প্রান্তিক তাঁতিরা। একইসঙ্গে তাঁত শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং তাঁতশিল্পের অসুবিধাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

মো. সুমন সরকার

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর