তেজগাঁও এলাকার পূর্ব তেজতুরীবাজারের ১ নম্বর রেলগেট সড়ক। এক সময় এ এলাকার রেল লাইনের দুই পাশে ছিল কয়েক শ বস্তিঘর। মূলত এসব বস্তিতে বিক্রি হতো ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা দেশীয় মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। তবে গত দুই বছর আগে পুলিশ এ বস্তি উচ্ছেদ করে। ফলে এলাকায় মাদক কেনাবেচা অনেকটা কমে যায়। কিন্তু করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হবার পর থেকে এ এলাকায় ২৪ ঘণ্টাই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাদকদ্রব্য। বিশেষ করে বেশি বিক্রি হচ্ছে গাঁজা। রীতিমতো ফেরি করে বিক্রি করা হচ্ছে এসব মাদকদ্রব্য। অপরদিকে মাদকসেবীদের সিংহভাগই রিকশা, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় এসে গাঁজার পুরিয়া কিনে নেয়। গাঁজার পুরিয়া বিক্রির জন্য শতাধিক তরুণী, বয়স্ক মহিলা রাস্তার পাশে পোটলায় গাঁজা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এ দৃশ্য গতকাল বুধবার দুপুরের।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিধিনিষেধ আরোপের কারণে অভিযানে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। আর এ সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে মাদক কারবারিরা। ফলে তাদের আনাগোনা বেড়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকার বেগুনবাড়ী থেকে চার মাদককারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৭ কেজি গাঁজা। গ্রেফতারকৃতদের বরাদ দিয়ে এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বিধিনিষেধের মধ্যেই মাদক কারবারিরা কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন ভাবে গাঁজার চালান সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রি করে আসছে। এর আগে গোয়েন্দা পুলিশের একই টিম গত রবিবার রামপুরা এলাকা থেকে ৫৫ কেজি গাঁজা জব্দ করে। এ সময় গাঁজা বহনের কাজে ব্যবহূত একটি পিকআপ ভ্যানও জব্দ করা হয়। গ্রেফতার করা হয় পিকআপ ভ্যান চালকসহ দুই জনকে। তারাও জানিয়েছে একই কথা। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সহকারী পুলিশ কমিশনার মুজিব আহম্মদ পাটওয়ারী জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতরা কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে রাজধানী হয়ে ময়মনসিংহের ভালুকার দিকে যাচ্ছিল।
অপরদিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মধুসূধন দাস জানিয়েছেন, গত রবিবার খিলগাঁও এলাকা থেকে তারা জব্দ করেন ৪৪ হাজার পিস ইয়াবা। গ্রেফতার করা হয় চার মাদক কারবারিকে। তিনি বলেন, ইয়াবার চালানটি ট্রাকে বহন করা হচ্ছিল। ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া সোমবার গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের একটি টিম মৌচাক এলাকা থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে দুই মাদক কারবারিকে। একই দিন গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ২০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে। গাঁজার চালানটি একটি প্রাইভেটকারে বহন করা হচ্ছিল।
এ ব্যাপারে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (ডিডি) মানজারুল ইসলাম বলেন, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, চলমান বিধিনিষেধের সময় মাদক কেনাবেচা অনেক বেড়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিধিনিষেধ চলমান থাকায় আগের মতো আর অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে মাদক কারবারিরা। অপরদিকে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, মাদকের কেনাবেচা বাড়লেও অভিযান থেমে নেই। গতকালও উত্তরা এলাকায় মাদক উদ্ধারের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। জানা যায়, বর্তমান সর্বাধিক বিক্রি হচ্ছে গাঁজা। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা। গাঁজার বড় বাজার কাওরান বাজার সংলগ্ন পূর্ব তেজতুরীবাজার।
