পারস্পরিক দ্বন্দ্বের অবসান!

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪৪

 বিনোদন রিপোর্ট

 

চলচ্চিত্র শিল্পে একদিকে যেমন টানাপোড়েন, সিনেমা হল বন্ধ, ছবি নেই কারো হাতে। অধিকাংশ নির্মাতা বেকার। চলচ্চিত্রে প্রযোজক সংকট! তাই তারকারা অভিনয়ের চেয়ে বেশি ব্যস্ত শোরুম উদ্বোধন ও ইভেন্টে পারফর্ম করার কাজে। কারণ তাদেরও তো পেশার জায়গাটায় টিকে থাকতে হবে। এর ভেতর সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছিল গতবছর। চলচ্চিত্রে বৃহত্ তিনটি সংগঠনের সঙ্গে পারস্পরিক বৈরি সম্পর্কের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পীড়া দিয়েছিল সকলকে। সংকটের ভেতরে এই বৈরি সম্পর্ক মূলত শিল্পী সমিতির সঙ্গে পরিচালক ও প্রযোজক সমিতির কিছু শর্ত মানা না মানাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়।

তবে আশার কথা হলো পরিচালক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর সকল অভ্যন্তরীণ বৈরি সম্পর্ক দূর হচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে পরিচালক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘আমাদের নিজেদের ভেতরে কেন দ্বন্দ্ব থাকবে? এটা তো ঝগড়া-বিবাদের সময় না। আমি আগেও এটাই বলে এসেছি। আর আমি নিজেও বুঝে পাইনি দ্বন্দ্বটা আসলে কিসের জন্য। কোনো কিছু নিয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে। সেটা আমরা এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবো। তাই আমাদের নিজেদের ভেতরে এই সম্পর্ক উন্নয়নটা জরুরি ছিল বলে মনে করেছি। শিল্পী সমিতির সঙ্গে পরিচালক ও প্রযোজক সমিতির কাজের যে শর্ত ছিল তা পরস্পর মেনে নিয়েই কাজ করবো একত্রে।’

শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কারোরই মূলত সেই অর্থে লিখিত দ্বন্দ্ব ছিল না। বা অভিযোগ ছিল না। যা ছিল দু-একজনের পারসোনাল জেলাসি। সেগুলো আমরা মিটিয়ে ফেলেছি। আমাদের এখন নিজেদের সামগ্রিক সংকট মোকাবেলার সময়। তাই এখন কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি মানেই নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা।’

এদিকে মিশা সওদাগরকে বয়কট করার বিষয়েও তুমুল আলোচনা ছিল। এমনকি পরস্পরের সাংগঠনিক চিঠি দেওয়া-নেওয়ার কথাও শোনা যায়। এ বিষয়ে পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘কেউ কাউকে বয়কট করেনি। এগুলো কিছু মানুষের ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝি এবং মিথ্যে খবর রটানো। তাই এ নিয়ে কারো ভেতরে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হোক তা আমরা কেউই চাই না।’

মিশা সওদাগর বলেন, ‘আমি বরাবরই নির্বিবাদী থাকার চেষ্টা করেছি। নিজেদের ভেতরে ভুল বোঝাবুঝিটাই একটু বড় করে দেখা হয়েছে। এ কারণেই আমি সবসময় চুপ ছিলাম। কারণ আমি জানতাম নিজেদের ভেতরে এই বৈরিতা এক সময় কেটে যাবে। আলহামদুলিল্লাহ আমরা এখন একসঙ্গে চলচ্চিত্রের সমস্ত সংকট মোকাবেলায় কাজ করবো।’

উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় মন্দাকাল পার করছে এখন সকলে। এর ভেতরে এই সম্প্রীতির খবর সবার ভেতরেই দারুণ আশাবাদ তৈরি করবে, এটাই সকলে বিশ্বাস করে।