লকডাউনেও খুলল রাজশাহী আরডিএ মার্কেট

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪৩

বিভিন্ন স্থানে বিধিনিষেধ মানতে অনীহা

ইত্তেফাক ডেস্ক

করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে সরকার তৃতীয় দফা বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানের হাটবাজার ও রাস্তায় বেড়েছে মানুষের ভিড়। তারা স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা রাজশাহীর আরডিএ মার্কেট খুলেছেন। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

রাজশাহী : সর্বাত্মক বিধিনিষেধে বন্ধ রাখার নির্দেশ ভঙ্গ করে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার আরডিএ মার্কেট খুলেছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে শুরু করেন। আগের দিন তারা মার্কেট খোলার দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সকালে এসে দোকান খুলে বসেন। এদিকে দোকান খুলে দিতে ব্যবসায়ী নেতারা বেলা ১১টায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। জেলা প্রশাসক তাদের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে বলেছেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটে কোনো দোকানই বন্ধ করা হয়নি। পুলিশ দোকান খুলতে বাধা না দিলেও আরডিএ মার্কেটের সামনের রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে। মার্কেটের পেছন দিক দিয়ে ক্রেতাদের ঢুকতে দেখা গেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশকে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি করতে দেখা গেলেও শহর জুড়ে প্রচুর রিকশা-অটোরিকশা চলাচল করছে। ক্রেতা শাহনেওয়াজ করিম বলেন, ব্যাংকের কাজে এসেছিলেন। মার্কেট বন্ধ থাকার কারণে বাচ্চাদের কেনাকাটা করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার দোকান খোলা পেয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন। দোকানি নাজমুল হক বলেন, এক বছর নিজের ২ লাখ টাকা পুঁজি শেষ করে ৫ লাখ টাকার ঋণে পড়েছেন। তাদের বাঁচার উপায় নেই। তাই দোকান খুলতে বাধ্য হয়েছেন। জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ব্যবসায়ীরা আরডিএ মার্কেট খুলেছিলেন। এরপর তাদের নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক হয়েছে। তারা কথা দিয়েছেন, ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত তারা দোকান বন্ধ রাখবেন। সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলবেন। তাই আমরা সেখানে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করিনি। তারা নিজেরাই মার্কেট বন্ধ করে দেবে। শুক্রবার থেকে মার্কেট কেউ খুলবেন না।

ঝিনাইদহ : তৃতীয় দফা বিধিনিষেধ ঝিনাইদহে চলছে ঢিলেঢালাভাবে। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে মানুষের চলাচল বেড়েছে। খোলা হয় দোকানও। এছাড়া সড়ক-মহাসড়কে ইজিবাইক, সিএনজি, মাহেন্দ্র, প্রাইভেটকারসহ যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। আগের মতোই মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদাসীন রয়েছেন মানুষ। বৃহস্পতিবার সকালে শহরের কেসি কলেজের সামনের জেলা পরিষদ মার্কেটে দেখা গেছে ফরিদুল টেলিকম নামের একটি মোবাইল বিক্রির দোকানে একটি পাল্লা খুলে বেচাকেনা চলছে। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। শহরের নতুন হাটখোলায় বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল। সাপ্তাহিক বাজার হওয়ায় বেড়েছে মানুষের ভিড়। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান বলেন, সর্বাত্মক লকডাউন কার্যকরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ :আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহরাঞ্চলে কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। তবে মফস্বল এলাকায় ঢিলেঢালাভাবে চলছে বিধিনিষেধ। বৃহস্পতিবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট দেখা গেছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও শহরের নিউমার্কেট, ক্লাব সুপার মার্কেট, শহিদ সাটু হল মার্কেট, সেন্টু মার্কেটের প্রধান গেট বন্ধ রেখে আশপাশের গেট খুলে দোকানগুলোতে বেচাকেনা চলছে।

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়িতে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকা ছাড়া বাকি সবকিছু চলছে ঠিকঠাকভাবে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মাঠে কাজ করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা।

নাটোর : নাটোরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গণপরিবহন ছাড়া আর সবই ঢিলেঢালাভাবেই চলছে। দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান এবং সিএনজিসহ ছোট যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা গেছে।

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : গোমস্তাপুরে হাটবাজার ও রাস্তায় লোকসমাগম ও যান চলাচল বেড়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তিন জন।