রাঙ্গুনিয়ায় বোরো ধান কাটা ব্যাহত!

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪৫

লকডাউনে কৃষিশ্রমিক সংকট

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

বোরো ধান পেকেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন বিলে। দিগন্ত বিস্তৃত বিলগুলো বোরো ধানের সোনালি শীষে ভরে উঠেছে। কয়েক দিন ধরে কোথাও কোথাও ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত কৃষিশ্রমিকের অভাবে ব্যাপকভাবে ধান কাটা যাচ্ছে না। ব্যাহত হচ্ছে ধান কাটা। ফসল ঘরে তোলার সময়ে কৃষি শ্রমিকের এ সংকটে খেতের পাকা ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষির মৌসুমে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষিকাজের জন্য শ্রমিকরা আসতেন। এবারের বোরো ধান পাকার মৌসুমে লকডাউনের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষি শ্রমিকরা আসেননি। এতে বোরো মৌসুমের ধান কাটায় প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে।

রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ একর জমিতে বোরো চাষ করেছি। খেতের পাকা ধান কাটার সময়েই লকডাউন পড়েছে। বাজারে কৃষিশ্রমিক মিলছে না। পরিচিত শ্রমিকের নিকট মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেছি। যানবাহন চলাচল না থাকার কারণে তারা আসতে পারছেন না। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে প্রচুর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’ উপজেলার কোদালা বিলের কৃষক আহমদ সৈয়দ, অতুল চন্দ্র দে, ফজল করিম জানান, শ্রমিকের অভাবে ধান কাটা বিঘ্নিত হচ্ছে। ধান কাটার সময়ে শ্রমিকসংকটে হতাশা প্রকাশ করেন তারা। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র মতে, উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও এক পৌর এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমে ৭১৫ হেক্টর জমিতে ইরিবোরো চাষাবাদ হয়েছে। স্থানীয় এবং উফশী জাতের ধানের চাষাবাদ হয় এসব জমিতে। ধানের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ হাজার ৪২ মেট্রিক টন। কৃষিবিদ এবং বিশিষ্টজনের মতে, বোরো ফসল কাটার মৌসুমে কৃষি কাজের শ্রমিকের জন্য যোগাযোগের বিশেষ ব্যবস্থা জরুরি।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, এবারের বোরোর ফলন খুবই ভালো হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার বেশি অর্জনের আশা করা যায়। ফসল তুলতে কৃষিতে অনুকূল পরিবেশ রক্ষা করতে কৃষি শ্রমিকদের জন্য লকডাউনে শিথিলতা প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে কৃষিশ্রমিকের যাতায়াতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।