বিপাকে ফুলবাড়ীসহ সাত উপজেলার চাষি

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪৫

আলু রাখার জায়গা নেই হিমাগারে

অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ সাত উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও একমাত্র ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন আলুচাষিরা। কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফুলবাড়ী, চিরিরবন্দর, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, পার্বতীপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলার ১০ হাজারেরও বেশি আলুচাষি হিমাগারে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আলু নিয়ে বিপদে পড়েছেন। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৩৪৪ হেক্টর জমি। কিন্তু চাষ হয়েছে ১৪ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে। উত্পাদন হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩০৭ মেট্রিক টন। ফুলবাড়ী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আলুচাষি সুবাস চন্দ্র ও লালপুর পাঠকপাড়া গ্রামের প্রদীপ কুমার বলেন, গত বছর আলুর দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর এলাকার কম-বেশি সব কৃষকই বেশি করে আলু চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে বাম্পর। প্রথম দিকে বাজারে আলুর একটু আশানুরূপ দাম পাওয়া গেলে এখন দাম পড়ে গেছে। তবে আলু এবং আলু বীজ হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারলে আগামীতে ভালো দাম পাওয়া যেত। কিন্তু হিমাগারে জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা আলু বিক্রি করে দিয়েছেন।

রাজারামপুর গ্রামের আলুচাষি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক চেষ্টা করে ৩০০ বস্তা আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পেরেছেন। গত বছরগুলো আলু সংরক্ষণ করেছেন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ বস্তা পর্যন্ত। কিছু আলু বাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষণের চেষ্টা করেছেন। ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের সুপারভাইজার মোজাম্মেল হক বলেন, হিমাগারে ১ লাখ ৫৬ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণের ধারণক্ষমতার পুরোটাই ভরে গেছে। হিমাগারে প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও চাষিরা আলু নিয়ে এসে ভিড় করছেন। কিন্তু হিমাগারে আর জায়গা নেই, তাই নিরুপায় হয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে এ বছর ব্যবসায়ীদের চেয়ে কৃষকদের আলু বেশি সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. তৌহিদুল ইকবাল বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা আলুর বাম্পার ফলন পেয়েছেন। আলু বীজের দাম বেশি থাকায় আলুর উত্পাদন খরচও বেড়েছে। গত বছর আলুতে আশানুরূপ লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এ বছর বেশি জমিতে আলু চাষ করেছেন। ব্যবসায়ীরা আলু রপ্তানিতে ভূমিকা রাখলে কৃষকরা সন্তোষজনক দাম পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।