তাইজুল ইসলাম তাজু, জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
জলঢাকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সনোলজিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফারের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। অন্য জায়গা থেকে রেডিওলজিস্ট এনে এক্সরে করতে হচ্ছে। লোকবলের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। জানা গেছে, হার্টের রোগীদের তাত্ক্ষণিক ইসিজি করার প্রয়োজন হলে নেই কার্ডিওগ্রাফার। গর্ভবতী নারীদের আলট্রাসনোগ্রামের প্রয়োজন কিন্তু সনোলজিস্টের অভাবে বাইরে থেকে চড়া দাম দিয়ে তা করতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা গেছে, আড়াই বছর ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে ছিল। সম্প্রতি মেশিনটি মেরামত করে পীরগাছা থেকে ধার করা রেডিওলজিস্ট এনে এক্সরে করতে হচ্ছে। এ সময় কথা হয় কয়েক জন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে। বুকে ব্যথা নিয়ে আসা এনামুল হক বলেন, ‘আমি এসেছি ইসিজি করতে। কিন্তু জানতে পারলাম এখানে কার্ডিওগ্রাফার নেই। তাই বাধ্য হয়ে তা বাইরে থেকে করতে হবে আমাকে।’ অন্যদিকে এক রোগীর স্বজন মোতাহারা বেগম বলেন, ‘আমার বৌমা গর্ভবতী, ছয় মাস চলছে, এসেছি আলট্রসনোগ্রাম করাতে। কিন্তু পারছি না।’
এছাড়াও জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে বিভিন্ন সমস্যা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায় হাসপাতাল চত্বর। ঐ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করে পুরো হাসপাতাল জুড়ে। পুরাতন স্থাপনা হওয়ায় ঝুঁকিতে থাকতে হয় অফিস স্টাফসহ রোগীদের। পুরোনো আমলের বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। যে কোনো সময় শর্টসার্কিটের মাধ্যমে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এছাড়াও পৃথক স্টোরেজের অভাবে অনেক জিনিসপত্র ঠিকমত রাখা যাচ্ছে না।
বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা এ এইচ এম ডা. রেজওয়ানুল কবীরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এক্সরে মেশিনটি চলছে ধার করা টেকনিশিয়ান দিয়ে। এছাড়াও আমাদের এখানে সনোলজিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফার না থাকায় সাধারণ সেবা ব্যাহত হচ্ছে। পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডগুলো রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। এ বিষয়গুলো নিয়ে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালটিতে পৃথক স্টোরেজ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রাদি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
