আরো এক সপ্তাহ বেড়েছে লকডাউন। ঘরবন্দি জীবন কেমন চলছে সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণে সরকারঘোষিত সর্বাধিক লকডাউনে ঘরবন্দি মানুষের জীবন কার্যত স্থবির। উপরন্তু পবিত্র রমজান মাস হওয়ায় বিত্তশালী ও নিয়মিত আয় থাকা মানুষ ছাড়া আর সবারই প্রচণ্ড দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তায় সময় পার করতে হচ্ছে। জীবিকার আগে অবশ্যই জীবনের সুরক্ষা অগ্রগণ্য হলেও সিংহভাগ মানুষকে জীবন বাঁচানোর রসদ জোগাতে নিত্য জীবিকার দ্বারস্থ হতে হয়, এই লকডাউনে যা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, সামর্থ্যবান গোষ্ঠী ব্যতিরেকে আর সবারই একটা চরম সংকটকাল পার হচ্ছে। আর লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে যাওয়ায় তাদের ঘরবন্দিকালীন দুর্ভোগও প্রলম্বিত হলো। অভাবের যন্ত্রণা লাঘব করে তাদের ঘরবন্দি জীবনের সময়টা যথাসাধ্য স্বস্তিদায়ক ও স্বাভাবিক করতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের ধনী মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
আবু ফারুক, বনরুপা পাড়া সদর, বান্দরবান।
সারা দেশ সর্বাত্মক লকডাউনের আওতায় থাকায় যাপিতজীবনের অনিবার্য চাহিদা পূরণ ও জীবিকার জোগান—ইত্যাদি জীবনঘনিষ্ঠ বৈষয়িক ভাবনার ঘোরে অধিকাংশ মানুষের নৈমিত্তিকতায় ছন্দপতন ঘটেছে, অনেকের ঘরবন্দি জীবন পরিণত হয়েছে সকরুণ দীর্ঘশ্বাসে। লকডাউনের কারণে জীবিকার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ায় অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে জড়িত প্রান্তিক পর্যায়ের সিংহভাগ মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক অভিঘাত একটি জটিল প্রেক্ষিত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজন পূরণের অপ্রতুল সুযোগ ও লকডাউন সৃষ্ট কর্মহীনতা গৃহবন্দিত্বের এই নাজুক পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাভাবিকতাকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করছে। এই সংকটকালে সরকারের তরফ থেকে ঘোষিত আর্থিক সহায়তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সময়মতো নিত্য শ্রমজীবী ও দারিদ্র্যপীড়িতের দোরগোড়ায় দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজের সক্ষম ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানোর বিকল্প নেই।
ওয়ারেছ আলী খান
সদর, নরসিংদী
লকডাউনে স্বাভাবিক সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঘরবন্দি মানুষ ভালো নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষই খেটে খাওয়া আর অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মজীবী। সর্বাত্মক লকডাউনের মেয়াদ বর্ধিত হওয়ায় যাদের কিছুটা সঞ্চয় রয়েছে তারা আপাতত পরিস্থিতি সামলাতে পারলেও সিংহভাগ মানুষের আর্থিক বিপর্যয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
আবুল কাশেম
বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম।
লকডাউন বৃদ্ধি পেয়েছে করোনা প্রতিরোধের জন্য, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের ঘরবন্দি জীবনের সূচনা। গরিব অসহায় মানুষের জীবনে এই লকডাউন কিংবা ঘরবন্দি জীবন কোনো আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসে নি, বয়ে এনেছে একরাশ চিন্তার ছায়া, জীবনযাত্রার মানের ভয়াবহ আতঙ্ক। সুতরাং এই ভয়াবহ সময়ে সমৃদ্ধশালী এবং সহূদয়বান মানুষ যদি এই গরিব অসহায় মানুষের দিকে এগিয়ে আসে তাহলে এই মানুষগুলো ঘরবন্দি জীবনে কিছুটা শান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।
ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা
ঝিকরগাছা, যশোর।
দেশের জনসংখ্যার বড় একটা অংশ লকডাউনে চরম বিপদে পড়েছে। তাদের রোজগার নেই। ব্যবসায়ীরা চরম হতাশায়। লকডাউনে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল নাগরিকদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সাইফুল ইসলাম তানভীর
গুলশান, ঢাকা।
কঠোর লকডাউনের সরকারি নির্দেশনা মেনে প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষই ঘরবন্দি। জীবনের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসুরক্ষার তাগিদে এটা মেনে নিতে হলেও ক্ষুধার অনিবার্য তাড়নার দাবিও কোনোভাবেই অস্বীকারযোগ্য নয়। লকডাউনে সীমাহীন দুর্বিপাকে দিনাতিপাত করছে নিম্নমধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী শ্রেণির জনসাধারণ।
এ এফ এম সালাহউদ্দীন
বান্দরবান সদর
সর্বাত্মক লকডাউন মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই ঘরবন্দি করেছে। উপর্যুপরি লকডাউন কেবল মানুষকেই বন্দি করেনি, জীবিকার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আয়ের পথও রুদ্ধ করে দিয়েছে। ফলে জীবনের আবশ্যকীয় সব চাহিদা পূরণে তাদের কঠিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তাছাড়া এমন লকডাউন নিশ্চিত আর্থিক নিরাপত্তাসমৃদ্ধ জনগোষ্ঠী ছাড়া আর সবার জন্যই অসহনীয় দুর্ভোগের বার্তাবাহক।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ি, চট্টগ্রাম।
মানুষ বন্দি ঘরে, শস্য বন্দি মাঠে, পণ্য বন্দি দোকানে, স্বপ্ন বন্দি মুঠোফোনে, গাড়ি বন্দি গ্যারেজে, টাকা বন্দি ব্যাংকে, হতাশা বন্দি মনে, পত্রিকার বিজ্ঞাপন বন্দি কম্পিউটারে, পুলিশ বন্দি রাস্তায়। লকডাউনে সচ্ছল পরিবারের সমস্যা না থাকলেও দৈনিক আয়ের মানুষের সমস্যার অভাব নাই। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার আছেন যারা দৈনিক আয় করেন, দোকান বা মার্কেট বন্ধ থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত বেশি।
মো. ফিরোজ আহম্মেদ
মিরপুর, ঢাকা
মহামারি করোনায় জনজীবন বিপর্যস্ত। করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যু নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন এবং দিশেহারা। দেশ জুড়ে চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় সরকার আরো এক সপ্তাহের লকডাউন বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন এবং জীবিকার বিষয়টি কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন। দিনমজুর এবং ক্ষুদ্র পেশার মানুষ একেবারেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। গত বছর লকডাউন চলাকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এবং বেসরকারি উদ্যোগে নিম্ন আয়ের মানুষকে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়েছে। কিন্তু এবারের লকডাউন চলাকালীন সাধারণ মানুষ কোনো রকমের সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছে না এবং সরকার থেকেও করা হচ্ছে না। সার্বিকভাবে মানুষ কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি থাকায় খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।
মো. মেসবাহউদ্দিন সেলিম
ইব্রাহিমপুর, ঢাকা ক্যান্ট.
সারা দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর হার ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। আক্রান্ত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী আড়াই কোটি মানুষ কোভিডের আঘাতে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। বন্দি হয়ে গেছে মানুষ। এ অবস্থায় তাদের প্রতি সহমর্মিতা, সহিষ্ণুতা প্রদর্শনের পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসা একান্ত জরুরি।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা।
পরিকল্পনাহীন কোনো কিছুই সফলতার মুখ দেখে না। উদাহরণস্বরূপ-এই লকডাউনে বলা হয়েছে সবকিছুই বন্ধ থাকবে। একদিন পর নিয়ম পালটে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, ব্যাংক—সবই চালু রাখার অনুমতি দিয়ে দেওয়া হয়েছে! শেষ পর্যন্ত পেটে লাথিটা পড়ল সাধারণ মানুষের ওপর।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লকডাউনও বেড়েছে। দুঃখদুর্দশা আর নানা সমস্যায় পড়েছে নিম্ন আয়ের ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের আয়-রোজগার নেই। অনেক মানুষ গ্রামঞ্চালে পাড়ি দিয়েছে। বন্দি হয়ে পড়েছে নিজ গৃহে। কবে আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে সেই চিন্তায় মধ্যবিত্তসহ সব শ্রেণির মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
মো. মামুন
বংশাল, ঢাকা।
করোনা ভাইরাসের কারণে সবার জীবন এখন অত্যন্ত কঠিন। সবার চোখে-মুখে হতাশা— কীভাবে সংসার-পরিজনকে আগলিয়ে রাখবে এই মহামারি ব্যাধির মধ্যে। কেউ কেউ মানসিকভাবে ভুগছে। সব মিলিয়ে মানুষ এখন নিরুপায় হয়ে পড়েছে। সমাজের সব স্তরের মানুষের উচিত এখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ
সদর, ফেনী।
দেশের লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়ল; কিন্তু তাতেও করোনার মৃত্যুর হার কমল না। অথচ গৃহবন্দি জীবনযাপনের কথা সবাই বলছি; কিন্তু কেউই বন্দি নই। সবাই নিজ নিজ প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে আছি। মৃত্যু আছে জেনেও সবাই কমবেশি ঘরের বাহিরে যাচ্ছি। ফলে করোনাও লাফিয়ে লাফিয়ে তার সংক্রমণ বৃদ্ধি করছে।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
রাজশাহী-৬২০২
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে, ফলে আমাদের দেশে শুরু হয়েছে লকডাউন। লকডাউনে জীবিকার সংকটে পড়েছে দেশের লাখ লাখ মানুষ। জীবন বাঁচাতে কোটি কোটি মানুষ ঘরবন্দি জীবনযাপন করছে। এসব ঘরবন্দি মানুষের দেখা দিয়েছে খাদ্য ও অর্থসংকট। এ পর্যন্ত সরকারের খাদ্য ও অর্থসহায়তা পৌঁছায়নি ঘরবন্দি মানুষের কাছে। তবুও মেনে নিচ্ছে মানুষ। স্বাস্থ্যবিধির কঠোরতা পারে কোভিড-১৯কে লাগাম দিতে।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী।
করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউন ছাড়া উপায় নেই। লকডাউন দিলে আবার জীবন-জীবিকা স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়।
সালেহা আফরিন বেবী
শিবগঞ্জ, সিলেট।
করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান ‘লকডাউন’ আবারও ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এতে কর্মহীন মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য উপকরণ ও অর্থ যদি পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে তারা ঘরে থাকবেন এবং সামাজিক দূরত্বের নিয়মবিধি মানবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছি।
বজলুল করিম
ধানমন্ডি, ঢাকা।
লকডাউনে অলিগলিতে মানুষের আড্ডা দেখা যাচ্ছে এবং তুচ্ছ অজুহাতে বাইরে চলে আসছে সাধারণ মানুষ। সরকারের সহায়তা কিংবা প্রণোদনা পরিকল্পনার কার্যকর ও স্বচ্ছ উদ্যোগই বিপন্নদের দুর্যোগ থেকে বহুলাংশে পরিত্রাণ দিতে পারে।
অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজ উদ্দিন
মিরপুর, ঢাকা।
লকডাউনে মানুষ গৃহবন্দি থেকে থেকে দিশেহারা হয়ে গেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং হাতের নাগালের মধ্যে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি না পাওয়ার দরুন এবং দোকানপাট বন্ধ থাকার কারণে রমজানের মধ্যে মানুষ কষ্ট করে সিয়ামব্রত পালন করছে। এর মধ্যেও সমাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে অনেকেই উদাসীন। লকডাউন দেওয়ার কারণ হচ্ছে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি পালন করে ঘরে থাকবে, ঘর থেকে বের হলে মাস্কসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে; কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এ ব্যাপারে মানুষের সচেতনতা নাই। স্বাস্থ্যবিধি পালন করে আমরা সচেতন থাকব এবং অন্যদেরও উত্সাহিত করব—এটাই প্রত্যাশা।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।
