হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষ বুঝে গেছে লকডাউন দেওয়া হয়েছে গণপ্রতিরোধ ও প্রতিবাদ ছাড়া নির্বিঘ্নে সহজে আলেম-ওলামাদের গ্রেফতারের জন্য। লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে সরকার সমগ্র দেশবাসীকে কষ্ট দিচ্ছে। দেশের নিম্নআয়ের গরিব মানুষকে আর হয়রানি ও কষ্ট না দিয়ে আমার কাছে তালিকাটা পাঠান, আমি অভিযুক্ত সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জেলে চলে যাব; একজন পুলিশও পাঠাতে হবে না। এর বিনিময়ে আপনারা লকডাউন তুলে নিন।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে একথা বলেন তিনি। জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, লকডাউনের অজুহাতে জোর-জবরদস্তি করে যেসব মাদ্রাসা ও হেফজখানা বন্ধ করে কোরআন-হাদিসের চর্চা বন্ধ করে দিয়েছেন, সেগুলো খুলে দিন। যাতে কোরআন-হাদিসের ব্যাপক চর্চার বরকতে দেশের উপর আল্লাহর রহমত নাজিল হয়। পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আমল করার সেরা সময়। আল্লাহর কাছে আনুগত্য ও গোলামি প্রকাশ করা এবং নেকি বাড়ানোর জন্য গুনাহগার বান্দার আপন সত্ত্বা ও অহং বিলীন করার মাস এই মাহে রমজান। অথচ এ মাসেই বাংলাদেশে জুলুম, গ্রেফতার, নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হেফাজতের আন্দোলন সব সময়ই শান্তিপূর্ণ ছিল এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করা দেশবাসীর সাংবিধানিক অধিকার। কোনো সরকারই জনগণের এই মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। ‘তাণ্ডব ও ভাঙচুর’-এর অভিযোগে সারা দেশে গত আট বছরে যত মামলা হয়েছে, তার সবই অবৈধ, ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা। বিনা শর্তে ষড়যন্ত্রমূলক এসব মিথ্যা মামলা বাতিল করুন, কারাবন্দি আলেম-ওলামাদের মুক্তি দিন।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে হেফাজত আমির বলেন, এই রমজান মাসে রিমান্ডে নেওয়া আলেম-ওলামাদের বিধর্মী এবং অবিশ্বাসীদের দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করাবেন না। তারা খুবই নিষ্ঠুর ও অপমানজনক আচরণ করছে। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন এসব বরদাস্ত করবেন না। হেফাজত আমির বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, মাহে রমজান হলো সাহায্য সহানুভূতির মাস। বাকি ১১ মাসের তুলনায় রমজান মাসে সব ধরনের ইবাদত-বন্দেগির ফজিলত অনেক গুণ বেশি। অথচ এই মাসেই বাংলাদেশে শত শত হেফাজত নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, ছাত্র ও তৌহিদী জনতার ওপর জুলুম, গ্রেফতার, নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
