করোনার কারণে মোদির পশ্চিমবঙ্গ সফর বাতিল

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৩

বিক্ষিপ্ত সহিংসতার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে ষষ্ঠ দফায় ৪৩ আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট পড়েছে ৭৯ শতাংশ। এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরো তিন প্রার্থী। এদিকে আজ শুক্রবার কলকাতার শহিদমিনারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি জনসভা করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় তিনি তার সফর বাতিল করেছেন। তবে নির্বাচনি এলাকাগুলোর জন্য বিকালে দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেবেন তিনি।

আগামী সপ্তম এবং অষ্টম দফায় পশ্চিমবঙ্গে মোট ৭১ আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ হবে ১৬ মে। ফলে          শেষ দুই দফায় মোট ৬৯ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে চার জেলার ৫৬ আসনে প্রচার চালানোর টার্গেট ছিল নরেন্দ্র মোদির। তিনি আসতে না পারলেও জায়েন্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে ঐসব জায়গায় দিল্লি থেকে দেওয়া ভাষণ দেখানো হবে।

গতকাল ভোটগ্রহণের সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর এলাকা। সেখানে বিজেপির ক্যাম্প অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় ভোটারদের সঙ্গে বচসার জেরে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বাগদার রণঘাটে বিজেপির ক্যাম্প অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য আহত হলো। মোট ১০ রাউন্ড গুলি চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘটনা খতিয়ে দেখছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। উত্তরবঙ্গের কালিয়াগঞ্জে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে হামলার অভিযোগ উঠেছে। কৃষ্ণনগর উত্তর আসনে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের অভিনেত্রী প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্যায়।

নতুন করে পাঁচ জন প্রার্থী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মদন মিত্র, শশী পাঁজা এবং সাধন পান্ডে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী। গত বুধবার করোনা আক্রান্ত সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরি। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কাজল সিনহাও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে তিন প্রার্থী করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের আসনে ১৬ মে ভোটগ্রহণ হবে।

নির্বাচনি প্রচারণা পদ্ধতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ক্ষোভ

মহামারি পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে ভোটপ্রচারের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন খালি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দায় সারতে পারে না। এই সময় নির্বাচন কমিশনে টি এন শেষনের মতো একজন ব্যক্তির দরকার ছিল। প্রয়োজনে আমরা টি এন শেষনের ভূমিকা পালন করব। উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে টি এন শেষন ভারতের নির্বাচন কমিশনার থাকাকালে রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে এমনকি সরকারি দলকে আলাদা গুরুত্ব না দিয়ে কিছু নির্বাচনি সংস্কার করেন।