মো. মমিনুর ইসলাম, ফিজিকাল ইনস্ট্রাকটর
পারুলিয়া তফশিলী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ
ব্যায়াম আমাদের শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই বাসায় নিজে নিজে অথবা জিমে ব্যায়াম করেন। প্রতিটি কাজেরই সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে। যেমন খাবারের সঠিক নিয়ম আছে , তেমনি ব্যায়ামের ও অনেক নিয়ম আছে, যা আমাদের জানা ও মানা দরকার। ব্যায়াম যদি ঠিক মতো না হয়, তবে শারীরিক নানান রকম সমস্যা হয়।
তাই নিজেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে হলে ব্যায়াম করার নিয়মগুলো ভালোভাবে জানতে হবে এবং মেনে চলার ও চেষ্টা করতে হবে। এখানে ব্যায়াম শুরুর কিছু কথা উল্লেখ করা হলো, যা জানা জরুরি।
* যে ব্যায়ামই করুন না কেন, শুরুতেই সামান্য স্ট্রেচিং ও ওয়ার্মআপ অবশ্যই করবেন। না হলে পেশি ও লিগামেন্টে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।
* যদি এক ঘণ্টা ব্যায়াম করেন তাহলে প্রথম চার-পাঁচ মিনিট হালকা ও ধীর লয়ের ব্যায়াম করবেন। শেষের দু-তিন মিনিটও তাই।
* ব্যায়াম করার সময় শারীরিক কষ্ট হওয়া মাত্র ব্যায়াম থামিয়ে দেবেন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেবেন।
* শুরুতেই অনেক সময় ধরে অনেক ভারী ব্যায়াম করবেন না। প্রথমে হালকা ব্যায়াম কম সময় ধরে করুন। প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়ান।
* ব্যায়াম করার সময় নিঃশ্বাস স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। কখনও খুব কষ্ট করে নিঃশ্বাস নেবেন না। ভালোভাবে নিঃশ্বাস যেন নিতে পারেন এমন করেই ব্যায়াম করবেন। তবে আসন বা যোগ ব্যায়ামের সময় নিঃশ্বাস নেওয়ার রীতি অবশ্যই আলাদা। এক্ষেত্রে পুরোপুরি আসনের নিয়ম মানতে হবে।
* জোরে হাঁটা, জগিং বা পায়ের ওপর চাপ পড়বে এমন ভারী ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিন। তা না হলে পায়ের সন্ধি বা কোষগুলোতে চাপ পড়ে ব্যাথা করবে, সাথে সাথে পিঠেও ব্যাথা হতে পারে।
* খুব টাইট বা শক্ত পোশাক পরে ব্যায়াম করা ঠিক না। টাইট পোশাক পরলে আপনার ব্যায়াম করার ভঙ্গিমায় কোথাও বাধা পড়তে পারে। এর ফলে ব্যায়ামের পুরো সুফল পাবেন না।
ভরাপেটে ব্যায়াম একদমই করবেন না। তবে একদমই খালি পেটেও ব্যায়াম করবেন না। তাই ব্যায়াম শুরুর আগে দুটি টোস্ট বা একটা আপেলের মতো হালকা কিছু খেতে পারেন।
