রিদুয়ান ইসলাম
বিশ্বের আধুনিক দেশগুলোকে আরো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য সৃজনশীলতা বা উদ্ভাবনের কোনো তুলনা নেই। যতই দিন যাচ্ছে ততই মানুষের নতুন চিন্তার আবির্ভাব হচ্ছে। প্রতিটি উন্নত রাষ্ট্রই তাদের উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে একমাত্র উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে। সৃজনশীলতা বা উদ্ভাবনের মাধ্যমে অনেক অকল্পনীয় জিনিসও আবিষ্কার হয়েছে। আর এই সৃজনশীল বিকাশকে আরো ত্বরান্বিত করতে, উদ্ভাবনকে অনুপ্রাণিত করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২০১৮ সালের ২১ এপ্রিল একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। তারপর থেকে প্রতি বছর এদিনে বিশ্ব সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দিবস পালিত হচ্ছে। প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কিছু প্রতিভা থাকে। কখন, কোথায়, কীভাবে যে তা বিকশিত হয়ে যায় অন্য কেউ তা বলতে পারে না। কেউ কেউ বই লিখে, ছবি এঁকে, গবেষণায় নতুন কিছু আবিষ্কারে, চিকিত্সাবিজ্ঞানে অবদান রেখে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। তাঁদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দৈনন্দিন কার্যাবলি সম্পাদন করা হয়। বিখ্যাতদের সৃষ্টি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকে আবার নতুন কিছু আবিষ্কার করার স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নের সঠিক পরিচর্যায় একদিন সেই লালিত স্বপ্নটি বাস্তবে পরিণত হয়। এভাবেই সৃষ্টি হয় নতুন কিছুর, পৃথিবী দেখে অভিনব আবিষ্কার।
উন্নত দেশগুলোতে লক্ষ করলে দেখা যায়, দেশগুলো জাতীয় বাজেটের একটা বিশাল অংশ গবেষণার খাতে ব্যয় করে থাকে। বিভিন্ন গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবগুলো আধুনিকায়নসহ অন্যান্য সংস্থাগুলোকে সরকারিভাবে সাহায্য করে থাকে। এতে গবেষকরা, উদ্ভাবকরা অনুপ্রাণিত হয়ে সৃজনশীলতার প্রতি গুরুত্ব দেন। ফলে তাঁরা বিশ্বে খুব ভালো আবিষ্কার দেখাতে সক্ষম হন। এভাবেই প্রতিটি দেশ যদি গবেষণার জন্য গুরুত্বারোপ করে তাহলে পুরো বিশ্বই আরো আধুনিক হয়ে উঠবে, উদ্ভাবনী শক্তিতে উন্মোচিত হবে।
বিজ্ঞানী থমাস আলভা এডিসনের বিদ্যুত্ আবিষ্কার, রাইট ব্রাদার্সের বিমান আবিষ্কার, চার্লস ব্যাবেজের কম্পিউটার আবিষ্কার, আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলের টেলিফোন আবিষ্কার, বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি-র টেলিস্কোপ আবিষ্কারসহ অসংখ্য নজরকাড়া আবিষ্কার পৃথিবীতে রয়েছে। যেগুলো এখন আমরা ব্যবহার করছি—এগুলো একটা সময় মানুষ চিন্তাও করতে পারেনি। সৃজনশীলতা বা উদ্ভাবনী শক্তির মাধ্যমে এখন আমরা এসব ব্যবহার করছি। তবে এমন বিশ্বখ্যাত আবিষ্কারগুলোর জন্য বিজ্ঞানীদের, উদ্ভাবকদের অনেক চিন্তা-ভাবনা ও ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এমনও আবিষ্কার আছে, যা এক হাজারবার ব্যর্থ হবার পর সফল হয়েছে। প্রতিটি সৃজনশীল চিন্তাভাবনার যথেষ্ট পরিচর্যার মাধ্যমে সেটি বাস্তবে আবিষ্কৃত হয়।
উদ্ভাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো প্রতিটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাব। সবচেয়ে বড় বড় আবিষ্কার হয়ে থাকে সেখান থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের কম্বিনেশনে অনেক জটিল চিন্তাও সহজ হয়ে যায়। ফলে নতুন আবিষ্কারে অল্প সময়ে খুব ভালো সফলতা পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা চিন্তায় গড়ে ওঠে নতুন জ্ঞান, উদ্ভাবন হয় নতুন কিছু। এভাবেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার প্রতিভার বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। এছাড়াও অনেকে নিজ বাসগৃহে গবেষণার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে শুরু করে দেয় গবেষণা। একটা জিনিসের ওপর দীর্ঘদিন গবেষণার পর সেটা থেকে নতুন কিছু উদ্ভাবন হয়। এভাবেই সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে এবং দিন দিন আরো সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আমাদের দেশ গবেষণা করে উদ্ভাবনে পর্যাপ্ত সফল নয়। অনেকে আবার উদ্ভাবনী কাজ থেকে ছিটকে যাচ্ছে। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাবে গবেষণা কাজে সৃষ্টি হয়েছে অনীহা। অনেকে আবার নতুন কিছু উদ্ভাবন করে সেটা থেকে সঠিক মূল্যায়ন না পেয়ে সরে যাচ্ছে সীমাবদ্ধ কোনো পেশায়। এসব প্রতিকূলতার কারণে উদ্ভাবনী শক্তিতে বিরূপ চিন্তাভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধান করে আমাদের দেশে সৃজনশীলতা কাজে লাগাতে হবে। তবেই আমরা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
