নতুন করে ভাবতে হবে

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩৩

বিপ্লব বিশ্বাস

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাভাইরাস শুধু মানুষবাহিত নয়, বরং এটি বায়ু দ্বারাও ব্যাপকভাবে বাহিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা করোনাভাইরাস যে পরিমাণ ছড়ায়, তার চেয়ে অনেক বেশি ছড়ায় বাতাসের দ্বারা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি অনুষ্ঠানে মাত্র একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা ৫৩ জন এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন এবং এই সংক্রমণের ঘটনাকে ‘সুপার স্প্রেডার ইভেন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে শুধু কিছু সময়ের জন্য একজন আক্রান্ত ব্যক্তি এতবেশি মানুষকে সংক্রমিত করার বিষয়টি গবেষকগণ পুরোপুরি প্রমাণ করতে পারেননি। এক্ষেত্রে করোনাভাইরাস যে বায়ুবাহিত রোগ, তার সপক্ষে অনেক শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেট। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন যে, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ভাইরাসের বড় আকারের ড্রপলেটের চেয়ে অতি ক্ষুদ্র আকারের ড্রপলেটগুলো বায়ুবাহিত হয়েই দ্রুত অনেক বেশি মানুষকে আক্রান্ত করছে। আর সংক্রমণের হার বাইরের তুলনায় বাড়ির ভেতরেই অনেক বেশি। তবে বাড়ির ভেতরে সুষ্ঠু বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে সংক্রমণের হার ব্যাপকভাবে কমে আসবে। একারণেই বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের খোলামেলা উন্মুক্ত পরিবেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ খুবই কম বা নেই বললেই চলে।

করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য সংস্থাগুলো যদি করোনাকে বায়ুবাহিত ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তবে মানুষকে এই ভয়ংকর ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব নয় বরং ভাইরাসটি আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কাজেই করোনা ভাইরাসকে মানুষবাহিত রোগ বিবেচনা করার পাশাপাশি বায়ুবাহিত হিসেবে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে মানুষকে ঘরে আটকে রেখে এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, নাকি আরো বাড়বে—এ বিষয়টি অবশ্যই ভেবে দেখার সময় এসেছে। মানুষ বা বায়ু বাহিত যা-ই হোক না কেন, এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে শতভাগ মানুষকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কাজেই মাস্ক ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

ফরিদপুর