বগুড়ায় আইসিইউ বেডের তীব্র সংকট

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:৩৩

সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই চালু হয়নি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মধ্যে বগুড়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যুর হারও সবচেয়ে বেশি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালেই আইসিইউ বেডের (শয্যা) তীব্র্র সংকট দেখা দিয়েছে। অথচ বেডসহ আইসিইউ যন্ত্রাংশ আর লোকবলের অভাবে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটই চালু করা যাচ্ছে না। শুধু তাই নয়, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ (সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই) আজও চালু হয়নি। এতে করে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে করোনা রোগীদের। 

মহামারি করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিত্সার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। তবে বগুড়ার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড নেই। যে কারণে প্রতিদিনই করোনা রোগীর মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। বগুড়া ২৫০ শয্যা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডটিকে এখন টিকা কেন্দ্র বানানো হয়েছে। সেখানে এখন চলছে কোভিড-১৯ এর টিকাদান কর্মসূচি। হাসপাতলের আট শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিটের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু আইসিইউ বেডের অভাবে ওয়ার্ডটি চালু হয়নি। একই সঙ্গে আইসিইউয়ের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলও সেখানে নেই। বগুড়া ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের (সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই) কাজ শুরু করা হলেও তা এখনো চালু হয়নি। করোনায় মুমূর্ষু রোগীদের হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিন কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্ল্যান্টের মেশিনারিজ বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চিকিত্সকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ সচল হলে হাসপাতালে করোনা রোগীরা হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন নিতে পারবেন।

যোগাযোগ করা হলে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্ববাধায়ক এ টি এম নুরুজ্জামান বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই চালু হলে মোট ২২৩ জন কোভিড ও ননকোভিড রোগীকে অক্সিজেন সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হবে। এজন্য হাসপাতালের বেডের সঙ্গে ২২৩টি অক্সিজেন পয়েন্ট বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন সীমিত আকারে এই সুবিধা শুধু বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) চালু রয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম চালু হলে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে রোগীর বেডে বেডে টানাহিঁচড়া করতে হবে না।  তিনি আরো জানান, হাসপাতলের আট শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিটের কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু আইসিইউ বেডের অভাবে ওয়ার্ডটি চালু হয়নি। একই সঙ্গে আইসিইউয়ের জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলও সেখানে নেই।

বগুড়ার শজিমেক হাসপাতলের উপ-পরিচালক ডা. ওয়াদুদ জানান, জেলায় শুধু শজিমেক হাসপাতলেই আটটি আইসিইউ বেডের ওপর নির্ভর করে চিকিত্সা দিতে হচ্ছে। এসডিইউর ম্যাধমে কাজ চালিয়ে আইসিইউর অভাব পূরণ করা হচ্ছে শজিমেক হাসপাতালে। যখন আইসিইউ বেডের কোনো রোগী মারা যায় অথবা সুস্থ হয়ে চলে যায়, তখনই মিলছে সিরিয়ালে থাকা অন্য রোগীদের বেড। তিনি আরো জানান, হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৭৫টি শয্যা থাকলেও তার চেয়ে বেশি করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে। রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় সেখান থেকে কম সংকটাপন্ন রোগীদের বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। শুধু গুরুতর করোনা রোগীদের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলে রাখা হচ্ছে।