গোপালগঞ্জ ও মোরেলগঞ্জে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪৫

ইত্তেফাক ডেস্ক

গোপালগঞ্জ ও মোরেলগঞ্জে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দাবদাহে নদীর পানিতে লবণ আসায় টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় খাবার পানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অন্যদিকে, মোরেলগঞ্জ পৌর সদরসহ ১৬ ইউনিয়নে খাবার পানির সংকট চলছে। খাবার পানির কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর :

গোপালগঞ্জ : তীব্র দাবদাহের সঙ্গে নদীর পানিতে লবণ এসেছে। নদীর পানি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় সরবরাহ করা হচ্ছে। রমজানের মধ্যে পানির সংকটে পড়ে পৌরবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় গোপালগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় বৃহম্পতিবার বিকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে নিরাপদ ও খাবার পানি সরবরাহ শুরু করেছে। গোপালগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক চন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে আমরা নিরাপদ ও খাবার পানি সরবরাহ করছি। এ প্ল্যান্টের মাধ্যমে ৯টি ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে প্রতিদিন অন্তত ১৬ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।’ টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল বলেন, ‘নদীর পানি বিশুদ্ধ করে পৌর এলাকায় সরবরাহ করা হয়। প্রতি বছর এ সময় নদীর পানিতে লবণ চলে আসে। তাই পৌরসভার পানিও লবণাক্ত হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা দিচ্ছে।’

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) : মোরেলগঞ্জ পৌর সদরসহ ১৬ ইউনিয়নে খাবার পানির তীব্র সংকট চলছে। খাবার পানির লাগাতার এ সংকটের কারণে ডায়রিয়াসহ নানা পেটের পীড়ায় ভুগছে শতশত পরিবার। থানা পুকুরের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা আবুবকর হাওলাদার জানান, প্রশাসন চত্বরের পুকুরের পানি পান করে তার পরিবারের সবাই ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। যার কারণে তিনি বিকল্প হিসেবে জারের পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, তার অফিসসংলগ্নসহ দুই/তিনটি ছাড়া ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফিল্টার সচল রয়েছে। কয়েকটিতে মেরামত কাজ চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, মূলত অনাবৃষ্টির কারণে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা চত্বরের পুকুরের পানির নানামুখী ব্যবহারের জন্য সংকট আরো চরম হয়েছে।