লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ১৩০ জনের মৃত্যুর শঙ্কা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ২২:১৪

 বিবিসি ও রয়টার্স

লিবিয়া উপকূলে একটি নৌকাডুবির ঘটনার পর দশ অভিবাসীপ্রত্যাশীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরো কমপক্ষে ১২০ জনের মৃত্যু আশঙ্কা করা হচ্ছে। একটি রাবারের নৌকায় করে ঐ অভিবাসীরা ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

ভাড়া করা জাহাজের পাশাপাশি এনজিওর ওশান ভিকিং জাহাজ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ঐ এলাকা অভিমুখে রওনা দেয়। ওশান ভিকিংয়ে থাকা অনুসন্ধান ও উদ্ধার সমন্বয়কারী লুইসা আলবারা বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমরা আজ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর থেকে জীবিতাবস্থায় কাউকে খুঁজে পাইনি। তবে আমরা ডুবে যাওয়া নৌকার কাছে কমপক্ষে ১০টি লাশ দেখতে পেয়েছি। এ দৃশ্য দেখে আমাদের হূদয় ভেঙে গেছে।’

উদ্ধারকারী সংস্থাটি বলেছে নৌকাটিতে প্রায় ১৩০ জন আরোহী ছিল ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও জীবিত কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে নৌকার আরোহীরা সবাই প্রাণ হারিয়েছে। আলবারা বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের পর আমাদের আশঙ্কাই সত্যি হলো। নৌকায় থাকা লোকজনকে আরো আগে উদ্ধারের চেষ্টা করলে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে এগিয়ে না আসার কারণেই এই অসহায় মানুষগুলো হয়তো সাগরে ডুবেই মারা গেল।’

অভিযোগ উঠেছে লিবিয়ার কোস্ট গার্ড অভিবাসীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি এবং উদ্ধারকারী দলকেও কোনো ধরনের সহায়তা করেনি। তারা সারা রাত ভরে শতাধিক অভিবাসীকে এভাবে সাগরের পানিতে ভেসে থাকতে বাধ্য করেছে, যার পরিণতিতে এসব মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা এবং অভিবাসনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা জানায়, তিউনিসিয়া উপকূলে ইউরোপ অভিমুখী আফ্রিকান অভিবাসীদের বহন করা একটি নৌযান ডুবে যাওয়ায় কমপক্ষে ৪১ জন প্রাণ হারিয়েছে। এসওএস মেডিটারানিয়ানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ভূমধ্যসাগরে ইতিমধ্যে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।