ক্যারিয়ার শুরু মঞ্চনাটক দিয়ে হলেও এরইমধ্যে টিভি নাটকে অভিনয় ও নির্মাণে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন আরিক আনাম খান। নির্মাণে নিজেকে পুরোপুরি সম্পৃক্ত করতে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। নিজের পরিকল্পনা ও ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন
এ এম রুবেল
বর্তমান কাজ সম্পর্কে জানতে চাই—
আমি প্রায় ২ বছর যাবত্ ক্যামেরার পেছনেই ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করছি। নিজের প্রথম ফিচার ফিল্মের ডেভেলপের কাজ করছি। কয়েকটি ওয়েব সিরিজ নির্মাণেরও কথা চলছে।
আপনি নির্মাণে নিয়মিত হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেভাবে এখনো নির্মাণে দেখা না যাওয়ার কারণ কী?
যদি কারো একটি কাজ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয় তখন পরের কাজ করতে কিন্তু অনেক ভাবতে হয়। কাজের সেই মানটা ধরে রাখতে প্রজেক্ট ডেভেলপ, স্ত্রিপ্ট থেকে শুরু করে পেছনের অনেককিছু গুছিয়ে, জেনে-বুঝে এগিয়ে যেতে হয়। তাছাড়া করোনার কারণেও একটু দেরি হচ্ছে।
বেশ কয়েকটি হলিউড মুভিতে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কতটা দেশের চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটে কাজে লাগাতে পারবেন মনে করেন?
একটি প্রোডাকশন সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পেতে সেই কাজগুলো অনেক সহযোগিতা করেছে আমাকে। যেটা আমার নির্মাণে কাজে লাগছে। কারণ আমাদের দেশে কিন্তু শেখার জায়গার অনেক অভাব। একটা প্রফেশনাল উপায়ে শেখার যে মূল্য আছে সেটা আমার কাজ দেখে অনেকেই বলেছেন।
মঞ্চনাটকের অবস্থা দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এর কারণ কী বলে মনে করছেন?
আমাদের আসলে হলের অভাব রয়েছে। এই সংকটের কারণে চাইলেও অনেকে নাটক করতে পারেন না। রাজধানীতে এত মানুষের জন্য মাত্র দুটি জায়গায় নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। অথচ প্রায় ২শ’ নাট্যদল রয়েছে। হল বাড়লে আমার মনে হয় মঞ্চনাটকের অবস্থা ভালোর দিকে যাবে।
নতুন মঞ্চকর্মী থেকে শুরু করে দর্শকরা এই মাধ্যমটির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বলে অনেকেই বলে থাকেন। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
প্রথমত, এখন যেহেতুে প্রফেশনাল যুগ, সেহেতু সেই মানের কাজ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মানুষ এখন ব্যস্ততা বাড়ায় সস্তা বিনোদনের দিকে ঝুঁকছেন। আমরা আসলে সাংস্কৃতিক-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ছি।
নতুনদের অভিযোগ আছে নিজের কেউ না থাকলে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পাওয়া কঠিন। এটা নতুন শিল্পী তৈরিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন না?
আপনি অভিনয়, নির্মাণ যেটাই করেন পরিচিতি লাগবেই। তবে অনেকেই বিখ্যাত নির্মাতা-অভিনেতা আছেন তাদের কিন্তু পরিচিত কেউ ছিল না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটা স্ট্যাগল করতে হয়। তারপরই কিন্তু সফলতা আসে। এখানে আসলে যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে কাজ করলে এক সময় সফল সে হবেই।
বর্তমানে নির্মাণ-অভিনয়ে অনেকই আসেন, কিছু মানহীন কাজ করে ঝরে পড়েন। এই অবস্থার পেছনে কারণ কী বলে মনে করছেন?
আমাদের শেখার জায়গা তৈরি করতে হবে। এর জন্য একটি ভালো ইনস্টিটিউট দরকার। একজন সিনেমা বা নাটক নির্মাণ করতে চায়, অভিনয় করতে চায় মানে তার ট্যালেন্ট আছে। তাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজটি শিখিয়ে দিলে নিশ্চয় অনেক ভালো কাজ করবে।
আপনার স্ত্রীও একজন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মানুষ। তার সঙ্গে কাজের বোঝাপড়া কেমন?
ওর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয় শিল্পকলায়। সেখান থেকেই একটু একটু করে এগিয়ে যাওয়া। আমাদের বোঝাপড়াও বেশ ভালো। আমার প্রফেশনাল কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত খুনসুটিতে ও সব সময় সাপোর্ট করে। আমিও চেষ্টা করি ওর সকল কাজে সহযোগিতা করতে। দু’জন মিলে জীবনটাকে আবিষ্কার করছি।
