এবার ১৮ শতাংশ বেশি পাট উত্পাদনের লক্ষ্য
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
গত বছর অপেক্ষাকৃত ভালো দর পাওয়ায় এবার দেশব্যাপী পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। চলতি মৌসুমে সারা দেশে ৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট ও পাট সদৃশ তন্তু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। আর পাটের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬ লাখ ১০ হাজার ৫৮০ বেল। গত বছর ৭২ লাখ ৮৬ হাজার বেল পাট উত্পাদন হয়েছিল। ইতিমধ্যে দেশব্যাপী পাট চাষ শুরু হয়ে গেছে। অবশ্য অনাবৃষ্টির কারণে কোনো কোনো এলাকায় চাষ ব্যাহত হচ্ছে। চাষিরা সেচ দিয়ে বীজ বপন করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঢাকার খামার বাড়ির প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার দেশি জাতের পাট চাষ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৩১ হাজার হেক্টরে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৯ দশমিক ২০ বেল হিসেবে দেশি জাতের পাট উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ বেল। তোষা পাটের চাষ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৬ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টরে। আর তোষা পাটের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ১১ দশমিক ৭৭ বেল হিসেবে ৭৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৮০ বেল। পাট সদৃশ্য তন্তু মেস্তা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২০ হাজার ২৯০ হেক্টরে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৮ দশমিক শূন্য ৯ বেল হিসেবে মেস্তার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৮ বেল। কেনাফ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২৪ হাজার ৭১০ হেক্টরে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৯ দশমিক ২৪ বেল হিসাবে কেনাফের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৪২ বেল।
বৈরী আবহাওয়া নিয়ে চাষিদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাধারণত বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে পাট চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর টানা পাঁচ মাস অনাবৃষ্টি চলছে। চাষিরা সেচ দিয়ে পাট চাষ করেছেন। এতে চাষের খরচ বেশি হবে। আবার অনেক চাষি বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছে। এতে চাষ নাবি হবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান। নাবি পাট কেটে রোপা আমন চাষের সময় থাকবে না। যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চলে টানা অনাবৃষ্টিতে পাট চাষ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চাষি পাট বীজ বুনতে পারেননি। সেচ দিয়ে চাষ করা জমির কচিকচি পাট গাছ বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে। ফের সেচ দিতে হচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার চর সোনদাহ গ্রামের চাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, এবার আট বিঘাতে পাট চাষ করার ইচ্ছা আছে। সেচ দিয়ে সাড়ে তিন বিঘাতে বীজ বুনেছেন। এখনও সাড়ে চার বিঘাতে পানির অভাবে বুনতে পারেনি।
দেশের অন্যতম প্রধান পাট উত্পদনকারী জেলা হচ্ছে ফরিদপুর। এ জেলার পাটের মানও ভালো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফরিদপুরের উপপরিচালক ড. মো. হজরত আলী জানান, চলতি মৌসুমে এ জেলায় ৮৬ হাজার ২০৬ হেক্টরে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। পাট বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে চাষ হয়ে আসছে। এবার বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিরা সেচ দিয়ে চাষ করছে। ইতিমধ্যে ২-৩ বার সেচ দিতে হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মেহেরপুরে উপপরিচালক স্বপন কুমার খাঁ বলেন, টানা অনাবৃষ্টির জন্য চাষিরা সেচ দিয়ে পাট চাষ করছে। খরার কারণে বারবার সেচ দিতে হচ্ছে। মাগুরার উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিরা সেচ দিয়ে পাট বুনছেন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক সেচ যন্ত্রে পানি উঠছে না। চাষিরা ৮-১০ ফুট গর্ত খুঁড়ে ইঞ্জিন নিচে নামিয়ে সেচের পানি তুলছেন। এতে চাষের খরচ বেশি হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সুধেন্দ্র নাথ রায় বলেন, চাষিরা প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে পাট চাষ শুরু করে। পরে বৃষ্টি হওয়ায় উপকার হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে পাট চাষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
