আফগানিস্তান :তালেবান পরবর্তী সময়ে কী পরিবর্তন হয়েছে?

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৪

আফগানিস্তানে আগ্রাসন ও তালেবান উত্খাতের ২০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে নিজেদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ২০ বছরে আফগানিস্তানে বড় ধরনের কী পরিবর্তন হয়েছে বিবিসি তা বিশ্লেষণ করেছে।

সমঝোতায় পৌঁছার উদ্যোগ ও বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের অনুমতি সত্ত্বেও পুরো আফগানিস্তান জুড়ে সহিংসতা অব্যাহত ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। জাতিসংঘের হিসেবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে নারী ও শিশুর সংখ্যাও। গত বছর অনেক টার্গেট কিলিং হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল সিভিল সোসাইটি, মিডিয়া, বিচার বিভাগ কিংবা বেসামরিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। এর আগে ২০১৯ সালের আগস্টে সহিংসতা পর্যালোচনা করে প্রতিদিন গড়ে ৭৪ নিহত হবার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এর আগের বছর আরো বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ঐ সময় ৩ হাজার ৮০০ মানুষ মারা গেছেন, আর আহত হয়েছিল ৭ হাজার ১৮০ জন।

নব্বইয়ের দশকে তালেবান শাসনের সময় নারীদের কাজের অনুমতি ছিল না এবং তাদের স্কুলে যেতে নিরুত্সাহিত করা হতো। ২০০১ সালে সে অবস্থার পরিবর্তন হয়। দেশটির ন্যাশনাল স্ট্যাটেটিকস এজেন্সি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকারি অফিসগুলোতে এখনো পুরুষের সংখ্যাই উল্লেযোগ্য পরিমাণ বেশি হলেও গত দুই দশকে নারীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে এসব সেক্টরে ৫১ হাজার ২০০ নারী কাজ করতো এবং গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৮৭ হাজার। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি রিপোর্টে সম্প্রতি বলা হয়েছে সরকারি অফিসগুলোতে এখন ‘নজিরবিহীন’ সংখ্যায় নারী আছে। সংরক্ষিত আসন আছে পার্লামেন্ট, প্রাদেশিক পরিষদ ও জেলা কাউন্সিলগুলোতে।

আফগানিস্তান বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র একটি দেশ। কিন্তু ২০০১ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক সহায়তা এসেছে এবং সে কারণে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও হয়েছিল। বিশ্ব ব্যাংকের হিসেবে ২০০৩ থেকে ২০১২ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধির গড় হার ছিল ৯.৪ শতাংশ। এরপর সহায়তা কমে আসায় প্রবৃদ্ধির গতিও ধীর হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।