পূর্ব জেরুজালেমে দ্বিতীয় রাতের মতো বিশৃঙ্খলা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২১, ২২:০৬

  এএফপি

সম্প্রসারিত পূর্ব জেরুজালেমে শুক্রবার দ্বিতীয় রাতের মতো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি পুলিশ এ সময় ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে স্টান গ্রেনেডও ছুড়ে মারে। সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হামলার ভিডিও পোস্ট দেওয়ায় জনতার বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে সেখানে এমন বিশ্রঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পবিত্র রমজান মাস চলাকালে ফিলিস্তিনিরা সাধারণত যেসব স্থানে ব্যাপক হারে সমবেত হয়, বৃহস্পতিবার ইসরাইলি পুলিশ সেই সব স্থানে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। এর ফলে প্রাচীরবেষ্টিত ওল্ড সিটির প্রবেশপথগুলোর একটির বাইরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার দিনের বেলায় শান্ত থাকার পর মাগরিবের নামাজের পর হাজার হাজার মুসল্লি আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়ার সময় দ্বিতীয় রাতের মতো বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ফিলিস্তিনিদের অশ্বপৃষ্ঠে থাকা ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ সশস্ত্র পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। মুসল্লি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে ফিলিস্তিনিরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ করে। এ সময় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ছোড়ে।

পুলিশ জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে জেরুজালেম ও রামাল্লাহ নগরীর মধ্যবর্তী কালানদিয়া ক্রসিংয়েও শুক্রবার শত শত ফিলিস্তিনি সমবেত হয়েছিল। পুলিশ আরো জানায়, পশ্চিম তীরের বেথলহেমে ফিলিস্তিনিরা বাইবেলে উল্লেখ থাকা পরিবার কর্ত্রী রাচেলের সমাধিস্তম্ভ লক্ষ্য করে পাথর ও পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। স্থানটি ইহুদি ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র। প্যালেস্টিনিয়ান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় সেখানে কমপক্ষে ১০৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ইসরাইলি পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় তাদের ২০ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার জানিয়েছে, জেরুজালেমে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে ইসরাইলের মিত্র এ দেশ ফিলিস্তিনিদের বৃহত্তর অধিকার রক্ষাকে উত্সাহিত করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।