স্পোর্টস রিপোর্টার
ক্যান্ডিতে কর্মক্লান্ত এক দিন কাটিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। দিনভর ৭৬ ওভার বোলিং করেছেন সবাই মিলে। কিন্তু প্রাপ্তির খাতা শূন্য। তিন সেশনে ২৮৩ রান খরচ করলেও কাঙ্ক্ষিত উইকেটের দেখা পাননি কেউই। উইকেটহীন দিন কাটানোর তিক্ততা হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। টেস্টে চতুর্থ বার এমন ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার মুখে পড়ল বাংলাদেশ দল।
দিমুথ করুনারত্নে, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাটে পিষ্ট হয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজরা। দুই লঙ্কানের ব্যাটের দেওয়ালে প্রতিহত হয়েছে তাইজুল-রাহীদের সব প্রচেষ্টা। নিখাদ ব্যাটিং উইকেট কখনোই বুকে টানেনি বোলারদের। পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে গতকাল রান উত্সবে মেতেছিলেন করুনারত্নে-ধনাঞ্জয়া। অধিনায়ক করুনারত্নে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। ধনাঞ্জয়া তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। আলোর স্বল্পতার কারণে গতকাল খেলা বন্ধ হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ৩ উইকেটে ৫১২ রান তুলেছে। বাংলাদেশের সংগ্রহ থেকে মাত্র ২৯ রান দূরে এখন লঙ্কানরা। করুনারত্নে ২৩৪, ধনাঞ্জয়া ১৫৪ রানে অপরাজিত আছেন।
ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষ হয়েছে। এখনো দুই দলের প্রথম ইনিংস শেষ হয়নি। আজ পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে ম্যাচটা ড্রয়ের দিকেই হাঁটছে। টানা চার দিন ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কথা বলা উইকেট পঞ্চম দিনে খোলনলচে বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাও কম।
গতকাল গোটা দিনে বলার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। সকালে প্রথম ঘণ্টায় নিজের ১১তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক। লাঞ্চের পর ধনাঞ্জয়া তুলে নেন সপ্তম সেঞ্চুরি। নানাভাবে উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সব চেষ্টাই নষ্ট করে দেন দুই লঙ্কান ব্যাটসম্যান।
চা বিরতির পর করুনারত্নে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পেয়ে যান। ধনাঞ্জয়াও দেড়শ পার হন। আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হয়ে যায় পড়ন্ত বিকেলে। তাদের জুটি অবিচ্ছিন্ন থেকে যায় ৩২২ রান যোগ করে। যা টেস্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪র্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। ৪১৯ বলে ২৫টি চারে করুনারত্নে অপরাজিত ২৩৪ রান করেন। ২৭৮ বলে ২০টি চারে ধনাঞ্জয়া অপরাজিত ১৫৪ রান করেছেন।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মিরাজ ৫২ ওভার, তাইজুল ৩৯ ওভার, তাসকিন ২৫ ওভার বোলিং করেছেন। টেস্টের মূল পেসার রাহী ১৩ ওভার, এবাদত ১৭ ওভার বোলিং করে উইকেটের দেখা পাননি।
গতকালকের আগেও টেস্টে তিন বার উইকেটশূন্য দিন কেটেছিল বাংলাদেশের বোলারদের। ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক রুডলফ-বোটা ডিপেনার, ২০০৭ সালে ঢাকায় রাহুল দ্রাবিড়-শচীন টেন্ডুলকার, ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে নেইল ম্যাকেঞ্জি-গ্রায়েম স্মিথ বাংলাদেশকে উইকেটহীন দিনের অভিজ্ঞতায় ফেলেছিলেন।
বাংলাদেশের উইকেটহীন দিন
ব্যাটসম্যান রান দিন সাল
রুডলফ-ডিপেনার ২৮০ ২ ২০০৩
দ্রাবিড়-টেন্ডুলকার ৩২৬ ১ ২০০৭
ম্যাকেঞ্জি-স্মিথ ৪০৫ ১ ২০০৮
করুনারত্নে-ধনাঞ্জয়া ২৮৩ ৪ ২০২১
বাংলাদেশের বিপক্ষে ৪র্থ উইকেট জুটি
ব্যাটসম্যান রান সাল
করুনারত্নে-ধনাঞ্জয়া ৩২২* ২০২১
গিলেস্পি-মাইক হাসি ৩২০ ২০০৬
লেম্যান-স্টিভ ওয়াহ ২৫০ ২০০৩
স্কোর কার্ড (চতুর্থ দিন শেষে)
টস :বাংলাদেশ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৫৪১/৭ ডি.
(আগের দিন ২২৯/৩, ৭৩ ওভার; করুনারত্নে ৮৫*, ধনাঞ্জয়া ২৬*)
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস রান বল চার ছয়
দিমুথ করুনারত্নে অপরাজিত ২৩৪ ৪১৯ ২৫ ০
লাহিরু থিরিমান্নে এলবিডব্লিউ ব মিরাজ ৫৮ ১২৫ ৮ ০
ওশাদা ফার্নান্দো ক লিটন ব তাসকিন ২০ ৪৩ ৪ ০
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস বোল্ড ব তাইজুল ২৫ ৩২ ৪ ০
ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা অপরাজিত ১৫৪ ২৭৮ ২০ ০
অতিরিক্ত (বা ৪, লে বা ৫, নো বো ৩, ও ৯) ২১
মোট (১৪৯ ওভার, ৩ উইকেট) ৫১২
উইকেট পতন : ১/১১৪ (থিরিমান্নে), ২/১৫৭ (ফার্নান্দো), ৩/১৯০ (ম্যাথুস)।
বাংলাদেশ বোলিং :
আবু জায়েদ : ১৩-১-৫৮-০, তাসকিন আহমেদ : ২৫-৬-৯১-১,
এবাদত হোসেন : ১৭-১-৮২-০, মেহেদী হাসান মিরাজ : ৫২-৬-১২৩-১,তাইজুল ইসলাম : ৩৯-৯-১৩৬-১, মুমিনুল হক : ১-০-৮-০,
সাইফ হাসান : ২-০-৫-০।
