রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ডিওএইচএসের ৪ নম্বর অ্যাভিনিউয়ের ৪ নম্বর রোডের ৭৪৩/৭৪৫ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টের ডি/৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় স্ত্রী উমামা বেগম কনককে (৫২) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাতেই মারা যান। তিনি আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ নিহতের স্বামী ওমর ফারুককে (৫১) গ্রেফতার করেছে।
নিহত উমামার দুলাভাই মো. বাবুল জানান, ডিওএইচএসের ঐ ফ্ল্যাটে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন ওমর ফারুক। তিনি দীর্ঘদিন জাপানে ছিলেন। দেশে ফিরে আসেন কয়েক বছর আগে। তাদের দুই সন্তান। বড় মেয়ে ফাহিমা ‘ও’ লেভেল এবং ছেলে ওয়াসিফ তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, কয়েক বছর আগে ওমর ফারুক জাপান থেকে ফিরে আসেন। ডিওএইচএসের ঐ ফ্ল্যাটটি স্ত্রীসহ তার নিজের নামে সমহারে মালিকানায় ক্রয় করেন। এর মধ্যে স্ত্রী তার কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়ে অন্য আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে ব্যবসার নামে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু ব্যবসায় ক্ষতির কথা জানিয়ে টাকা আর ফেরত দেননি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে স্বামী স্ত্রীকে ফ্ল্যাটের অংশ তার নামে লিখে দিতে বলেন। স্ত্রী অস্বীকার করলে ওমর ফারুক রান্নাঘর থেকে বঁটি এনে স্ত্রীকে উপর্যুপরি কুপিয়ে আহত করেন। পরে স্বজনরা উমামাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে রাত ৩টার দিকে তিনি মারা যান। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পল্লবী থানার ওসি আরো জানান, ঘটনার পর পুলিশ ওমর ফারুককে গ্রেফতার করে। ঐ ফ্ল্যাট থেকে হত্যায় ব্যবহূত রক্তমাখা বঁটি জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে নিহতের ভাতিজা মুনির আহমেদ সরকার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ওমর ফারুককে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
এদিকে উমামার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল এক শোক বিবৃতিতে তিনি উমামার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
