ভারতের এই ভাইরাল ছবি করোনার যে পরিস্থিতি তুলে ধরলো

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:০৩

ভারতে একটি হৃদয় বিদারক ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিটিতে দেখা গেছে, এক মা তার পায়ের কাছে তার ২৯ বছর বয়সী ছেলের মরদেহ নিয়ে বসে আছেন। এটি তোলা হয়েছে উত্তর প্রদেশের রাজ্য বারাণসী শহরের একটি ব্যস্ত রাস্তায়। বসে থাক হতক্লান্ত মা হচ্ছেন চন্দ্রকাল সিং, তার ছেলে বিনীত সিং। এ খবর দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি বীভৎস মহামারী এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মধ্যে আটকা পড়ে থাকা ভারতীয়দের দুর্দশার এক উদাহরণ এটি। ভারতের কোভিড -১৯ এর তীব্র দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে এই উত্তর প্রদেশ রাজ্য সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে রয়েছে। মহামারি সামলাতে হিমশিম খাওয়া এই বারাণসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী এলাকা।

সোমবার সকালে, মিসেস সিং তাদের ছেলের সাথে তাদের বাড়ি থেকে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (বিএইচইউ) সংযুক্ত একটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এটা বিনীতের আঙ্কেল জয় সিং বিবিসিকে বলেন। তিনি বলেন, বিনীত কিডনির অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং কিছু সময়ের জন্য বিএইচইউ হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করছিলেন। তিনি এক সপ্তাহ আগে সোমবারের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করেছিলেন।

কিন্তু মা ও ছেলে যখন হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন তখন তাদের জানানো হয়েছিল যে চিকিৎসক সেখানে নেই এবং তাদের ট্রমা সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

বিনীত ট্রমা সেন্টারের প্রবেশমুখেই 'কলাপস' করে এবং তার মা জানান, হাসপাতালের স্টাফরা তাকে ভর্তি করতে অস্বীকার করে। তিনি বলেন, তারা বলেছিল সে করোনা আক্রান্ত। ওকে এখান থেকে নিয়ে যাও। আমার ছেলে দম ফেলার জন্য হাঁপিয়েছিল। আমরা অক্সিজেন এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা কিছুই পাইনি।

এরপর তিনি বিনীতকে একটি ইলেকট্রিক রিকশায় করে কাছের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান কিন্তু সেখানেও ভর্তি নেয়নি। তৃতীয় হাসপাতালে যাওয়ার পথে বিনীত মারা গেলেন। ঘটনাটি কভার করা প্রতিবেদক শ্রাবণ ভরদ্বাজ বিবিসিকে বলেছেন, যে রাস্তায় ভিনিতের মৃত্যু হয়েছিল তা বিএইচইউর ঠিক বাইরে এবং তার উপর কয়েক ডজন বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে।

কোভিড -১৯ জটিলতায় বিনীত মারা গেছেন কিনা বা তিনি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। তার পরিবার বলেছে "তার কোনও লক্ষণই ছিল না"। বিনীতের আঙ্কেল বলেন, বিনীতের জীবন বাঁচানো যেত। অবহেলায় তিনি মারা গেলেন। এই ধরনের অবহেলা আরও অনেক মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

ইত্তেফাক/এসএ