রুপালি পর্দায় চিত্রনায়ক নিরব হোসেনের একযুগ পূর্ণ হলো এ বছর। ২০০৯ সালে শাহীন-সুমনের ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’র মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। দেখতে দেখতে ঢালিউডে পার করেছেন একযুগ। ইদানীং তিনি বেশ আলোচিত। সম্প্রতি নতুন কয়েকটি ছবিতে কাজ শুরু করেছেন এই অভিনেতা। এসব বিষয় নিয়ে ইত্তেফাক অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
১. নতুন কয়েকটি ছবির সুবাদে আপনি এখন বেশ আলোচনায়। কেমন উপভোগ করছেন বিষয়টা?
নিরব হোসেন: প্রথমত আলোচনা নিয়ে অতো ভাবি না। মানুষ মূলত ধীরে ধীরে ভালো থেকে আরও ভালোর দিকে যায়। চলচ্চিত্রে পা রাখার পর থেকে ধীরে ধীরে দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করেছি। ‘গেইম রিটার্নস’, ‘আব্বাস’, ‘হৃদয় জুড়ে’ ছবিগুলো মুক্তির পর সবাই সহযোগিতা করেছে। দর্শকের কাছে সিনেমা কতটা পৌঁছাচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো দর্শকদের প্রতিক্রিয়া। সেই জায়গা থেকে ‘গেম রিটার্নস’ ও ‘আব্বাস’ অনেক সাহস জুগিয়েছে আমাকে।

২. সৈকত নাসিরের ‘ক্যাসিনো’ (শবনম বুবলি) ও ‘ক্যাশ’ (পূজা চেরি রায়), আসিফ ইকবাল জুয়েলের ‘চোখ’ (শবনম বুবলি), রোজিনার ‘ফিরে দেখা’ (অর্চিতা স্পর্শিয়া), বন্ধন বিশ্বাসের ‘ছায়াবৃক্ষ’ (অপু বিশ্বাস), অনন্য মামুনের ‘কসাই’ ও ‘অমানুষ’ (রাফিয়াত রশিদ মিথিলা), দায়েল রহমানের ‘তিতুমীর’। আপনার এসব ছবি দেখে বোঝা যাচ্ছে, আনকোড়া নায়িকাদের তুলনায় প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের সঙ্গেই জুটি বাঁধছেন বেশি। এটা কি আলোচনায় থাকার জন্য?
নিরব: সৈকত নাসির মেধাবী নির্মাতা। তার ‘ক্যাসিনো’তে ছিলেন শবনম বুবলি। এটাই বুবলির প্রথম ছবি যেটি শাকিব খান ছাড়া তিনি করেছেন। আমিও চেষ্টা করেছি ভালো করার। অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলি, মিথিলা, স্পর্শিয়াসহ সবাইকে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। আর আলোচনায় তো থাকাই যায়। কারণ তাদের মতো দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীদের সঙ্গে সবার মতো আমিও কাজ করতে চাই। এখন আমরা ইউটিউবসহ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছেছি, তাই এখন সবকিছু হিসেব করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

৪. করোনা মহামারির কারণে সিনেমা হলে ছবি মুক্তি দেওয়া কিংবা দর্শকদের সিনেমা হলে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আপনার নতুন ছবিগুলো সিনেমা হলে মুক্তির ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
নিরব হোসেন: সিনেমা হলে ছবি মুক্তি দেওয়ার বিষয় হলো টাইম কন্টেন্ট। সময়ই বলে দেবে কখন কী করতে হবে। অনেক বড় বাজেটের ছবি সম্পূর্ণ হয়ে আছে যেগুলো মুক্তি দেওয়া যাচ্ছে না। গত বছরের দুই ঈদে ছবি মুক্তি পায়নি। আসন্ন ঈদেও সিনেমা হলে নতুন কিছু থাকবে কিনা তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। এখানে আসলে কিছু করার নেই। কারণ আমরা সবাই পরিস্থিতির শিকার। আমাদের দেশে এখনো অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। সরকার বিধিনিষেধসহ নীতিমালা আরোপ করেছে। সেগুলো মেনে সিনেমা হলে নতুন ছবি ফিরতে কতদিন লাগবে তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের ওপর।

৫. ২০০৯ সালে শাহীন-সুমনের ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’র মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক আপনার। একযুগ পর এসে নিজের অবস্থান নিয়ে কি আপনি সন্তুষ্ট?
নিরব হোসেন: সন্তুষ্ট হওয়াটা আসলে কঠিন। কিছু কিছু জায়গায় তো আক্ষেপ থেকেই যায়। মানুষের মধ্যে না পাওয়ার ক্ষুধাটা যদি না থাকে তাহলে অবশ্যই সেটা ভালো না। একটা মানুষ যখন সবকিছু পেয়ে যায় তখন তার বাঁচার ইচ্ছে থাকে না। অবশ্যই আমি আমার ক্যারিয়ারের জায়গা থেকে সন্তুষ্ট না। মনে হয় এখনো কিছুই হয়নি। এখনো প্রতিটি কাজের সময় নিজেকে নতুন লাগে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
