কারা খাবেন,কারা খাবেন না
চারদিকে করোনা, পাশাপাশি গায়ে জ্বালা ধরানো গরম। এই প্রচণ্ড গরমে যখন অতিষ্ঠ বা করোনায় অস্থির তখন শরীর দেহ মন ভালো রাখবে রসালো ফল তরমুজ। সুস্বাদু, মরশুমি ফল—এতে রয়েছে শতকরা ৯০ ভাগ মিষ্টি পানি। ১০০ গ্রাম তরমুজে ক্যালরির পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ ভাগ।
মেদবহুলদের জন্য তরমুজ সেরা ফল। ওজন কমানোর ডায়েট হিসেবে খুবই কার্যকর। ক্যালরি কম থাকায় এই ফল মন ভরে খেলে পেট ভরে যায় খুব সহজে। তরমুজ খেলে খিদেও কম পায়। শুধু কী তাই! তরমুজ খেলে ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করে না—শরীরের আর্দ্রতা বজায় রেখে শরীরকে তরতাজা রাখে। তরমুজ শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও প্রচণ্ড তৃষ্ণা মিটিয়ে দেহে পানির পরিমাণ ঠিক রাখে।
চিকিত্সকরা বলেন, নিয়মিত তরমুজ খেলে গরমে স্ট্রোক বা হিট স্ট্রোক ঠেকানো সম্ভব। কোষ্ঠবদ্ধতাও রোধ করে। পাইলসেও উপকারী। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় যাঁরা ভোগেন, তাদের জন্য উপকারী ফল।
তরমুজের লাল রং আসলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতিকেই নির্দেশ করে। লাইকোপিন নামক উন্নত মানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জন্যই তরমুজের ভেতরটা লাল। স্ট্রেস, খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য মানুষের শরীরে সৃষ্টি হয় ক্ষতিকর বিষাক্ত ফ্রি রেডিক্যাল—যেজন্য ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হার্টের অসুখ, আর্থারাইটিসের মতো অসুখ হয়। তরমুজে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি—যা কি না উল্লিখিত রোগ প্রতিরোধ করে। নিয়মিত খেলে ত্বক ভালো থাকে। সেলেনিয়াম, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্কের মতো প্রয়োজনীয় কিছু খনিজ এছাড়াও থাকে প্রচুর সোডিয়াম—এগুলোর প্রতিটিই মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বা নিউট্রিয়েন্ট। তাই তরমুজ নিয়মিত খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ করতে পারে।
তবে ডায়েরিয়া হলে তরমুজ খাওয়া যাবে না। কিডনির সমস্যা থাকলেও। উচ্চ রক্তচাপের কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ আছে, যেগুলো খেলে তরমুজ খাওয়া নিষেধ।
লিয়াকত হোসেন খোকন
