হো হো হা হা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪১

এক রাজা একদিন তাঁর উজির-নাজির লোক-লস্করে মৃগয়া করতে যাচ্ছিলেন। পথে যেতে যেতে তাঁরা শেওড়াগাছ দেখতে পেলেন; তার পাতাগুলো কেমন বাঁকা। রাজা মশায় একটা পাতা হাতে করে দেখেন, তা বড়ই খসখসে। তখন রাজা উজিরকে ডেকে বললেন—‘দেখ উজির সব গাছের পাতা কেমন সোজা আর নরম, কিন্তু শেওড়াগাছের পাতা এমন বাঁকা বাঁকা আর খসখসে কেন, জলদি বল। তা বলতে না পারলে এখনি তোমার ও তোমার জন-বাচ্চার গর্দান মারব।’

উজির দেখেন, এ যে বড়ই বিপদ! বিধাতা যেমন বানিয়েছেন তেমনি হয়েছে, তা আবার কেন, তা কে জানে? তবু তো একটা জবাব দেওয়া চাই। তাই শেষে একটু ভেবেচিন্তে চালাকি করে বললেন, মহারাজ ধর্মাবতার, এটা সকল গাছের জামাই গাছ। তাই এর পাতাগুলো এমন বাঁকা বাঁকা আর খসখসে। দেখেন না, মানুষের মধ্যে জামাইগুলোর স্বভাব কেমন রূঢ় আর মেজাজটা চটা।

রাজা এ-উত্তরে ভারি খুশি হয়ে তত্ক্ষণাত্ উজিরকে টাকা পুরস্কার দিলেন, আর তখনি ঐ গাছটাকে কেটে ফেলার অনুমতি দিয়ে বললেন—‘আমার কড়া হুকুম, রাজ্যে যেখানে যত জামাই আছে, সাতদিনের মধ্যে সকলেরই গর্দান মারা চাই। কী, আমার রাজ্যে এমন সব লোক থাকে!’

উজির হুকুম পেয়ে সাহস করে কোনো কথা বলতে পারলেন না। তখনই রাজ্যের যত জামাই, সকলকে এক দিক থেকে কাটতে শুরু করে দিল। শীঘ্রই রাজা মশাই দেখতে পেলেন যে, তিনিও একজনের জামাই। তখন আর কী করা যায়? হুকুম রদ করা হলো।

সূত্র: হাসির গল্প/শেখ হবিবর রহমান