ভোলা সদর হাসপাতাল
ভোলা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি
২৫০ শয্যার ভোলা সদর হাসপাতালে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের তিনটি টিউবওয়েলের দুইটি টিউবওয়েল বিকল হওয়ায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় চার শতাধিক রোগীর পানির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের স্বজনরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোলা সদর হাসপাতালের ভেতরে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের সামনে থাকা টিউবওয়েলের পাইপের মাথা ছাড়া কিছুই নেই। একই রকম মেডিসিন ওয়ার্ডের সামনে থাকা টিউবওয়েলটি বিকল অবস্থায় আছে। অপরদিকে হাসপাতালের নতুন ভাবনের সামনে যে বাকি একটি টিউবওয়েল আছে তাও প্রায় নষ্ট বললেই চলে। হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আশা রোগীর স্বজনদের বাধ্য হয়ে দোকান থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাবাজার থেকে চিকিত্সা নিতে আসা মো. মাইনুদ্দিন জানান, হাসপাতালের ভেতরে খাওয়ার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। বাইরে দূরে একটি টিউবওয়েল আছে, তাও নষ্ট, দুই লিটার একটা বোতল ভরতে আধাঘন্টা সময় লাগে। ভলুমিয়া থেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত মেয়ে নিয়ে আসা ফয়জুন নেছা বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে দুই দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। রাতে খাওয়ার পানির প্রয়োজন থাকায় এবং হাসপাতালের ভিতরে টিউবওয়েল নষ্ট থাকায় পানি সংগ্রহ করতে পারিনি। ভোরবেলা বাসায় ফোন দিলে বাসা থেকে বোতলে করে পানি নিয়ে আসে।’ ভোলা জেলা সচেতন নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব মো. বাহাউদ্দিন জানান, সদর হাসপাতালে খাওয়ার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। যা একটা আছে তা অকেজো। সদর হাসপাতালে দ্রুত খাওয়ার পানির জন্য পর্যাপ্ত টিউবওয়েল স্থাপন প্রয়োজন। তা না হলে প্রতিদিন যে হারে ডায়রিয়াসহ অন্য রোগীরা হাসপাতালে আসছে, তারা পানির সংকটে বড় ধরনের রোগে আক্রান্ত হবে।
এ ব্যাপারে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সিরাজ উদ্দিন জানান, আমি পানি সমস্যার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তবে হাসপাতালে আমাদের নিজস্ব সাপ্লাইয়ের পানি আছে। ধোয়ামোছাসহ অন্যান্য কাজে আমাদের সাপ্লাইয়ের পানি ব্যবহার করা হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ইঞ্জিনিয়ারকে অবগত করা হয়েছে হাসপাতালের বিকল টিউবওয়েলগুলো মেরামত করার জন্য। তিনি আরো জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে আমাদের জানানো হয়, হাসপাতালের বিকল টিউবওয়েলগুলো মেরামতের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। তাই আমরা পুনরায় গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীকে অবহিত করেছি, তারা সমাধানের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
