ইত্তেফাক রিপোর্ট
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেসঙ্গে ডিএসইতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে এ নিয়ে লেনদেন হওয়া সাত কার্যদিবসেই ঊর্ধ্বমুখী থাকল শেয়ারবাজার।
কঠোর লকডাউনেও শেয়ারবাজারে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আর লকডাউনেও শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় তারা খুশি। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিএসইসি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপিত হয়েছে, যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু থাকবে। এটা বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়িয়েছে।
লকডাউনের সময়েও শেয়ারবাজার চালু রাখা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজার এখন অনেক মানুষের রুটি-রুজির সঙ্গে জড়িত, লেনদেন বন্ধ থাকলে প্রচুর লোকের জীবিকায় ক্ষতি হবে। বাজার আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে, পিছনে চলে যাবে। বন্ধ করে দিয়ে আমরা সমস্যার সমাধান করতে পারছি না। কারণ, খুব সহজে করোনার সমস্যা সমাধান হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।
লকডাউন শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, অর্থনীতি যখন চলে পৃথিবীর কোথাও ক্যাপিটাল মার্কেট বন্ধ থাকে না। আমরা তো বিশ্ব থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারি না। সব জায়গায় যেরকম আমাদেরও সেরকম হতে হবে। আমরা যেহেতু ডিজিটাল প্ল্যাটফরম করে ফেলেছি, আশা করি ঘরে বসে হলেও ডিজিটালি কাজ করতে পারব। টেলিফোনে কাজ করতে পারব, মোবাইলে কাজ করতে পারব। আমরা বন্ধ করব না।
গতকাল দিনের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৯৮ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে কঠোর বিধিনিষেধের সাত কার্যদিবসে ডিএসই প্রধান সূচক বাড়ল ২৩৭ পয়েন্ট। প্রধান সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক। এই সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২০১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৮টির এবং ৭৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৮৮৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনেদেন বেড়েছে ৩০৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১১৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার ৬৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৫০ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, রেনেটা, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, রবি, ঢাকা ইনসিওরেন্স এবং এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইনসিওরেন্স।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৪৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির এবং ৪১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
